যে কারণে বিয়ের খবর গোপন করেছিলেন রেলমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার প্রায় আড়াই বছর পর ৪২ বয়সী এক নারীকে বিয়ে করলেন ৬৫ বছর বয়সী নূরুল ইসলাম। গত ৫ জুন বিয়ে করলেও তা সপ্তাহখানেক প্রকাশ করেননি রেলমন্ত্রী। পরে বৃহস্পতিবার জানাজানি হয় দিনাজপুরের বিরামপুরের মেয়ে শাম্মী আকতার মনিকে বিয়ে করেছেন নূরুল ইসলাম সুজন। তবে কেনো বিয়ের খবর এতদিন গোপন করেছিলেন তা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।

শুক্রবার নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানো হয়নি বলেই বিয়ের কথা গোপন রেখেছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে তারপর বিয়ের খবর সবাইকে জানাতে চেয়েছিলেন।

বেশ কিছুদিন আগে আইন বিষয়ে পরামর্শ নিতে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলামের কাছে গিয়েছিলেন আইনজীবী শাম্মী আক্তার। সেখান থেকেই দুজনের পরিচয়। পরবর্তী সময়ে আলোচনার মাধ্যমে পারিবারিকভাবে বিয়ে। করোনার কারণে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, সবকিছু ঘরোয়াভাবেই হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রেলমন্ত্রী বলেছিলেন, আড়াই বছর আগে তার স্ত্রী মারা গেছেন। দুই মেয়ে ও এক ছেলের বিয়ে হয়ে গেছে। পরিবারের আগ্রহে তিনি দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেক কনের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) এসেছে। এগুলো যাচাই বাছাই চলছে। কনে পছন্দ হলে সবাইকে জানিয়ে বিয়ে করবেন।

শাম্মী দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার নতুন বাজার এলাকার প্রয়াত আবদুর রহিমের মেয়ে। ৫ জুন (শনিবার) ঢাকার উত্তরায় মন্ত্রী নূরুল ইসলামের সঙ্গে শাম্মী আক্তারের আকদ হয়। নূরুল ইসলাম সুজনের মতো তার নতুন স্ত্রীও পেশায় আইনজীবী। পাশাপাশি ঢাকার একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত। দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে এটি।

বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর শুক্রবার রেলমন্ত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে বিয়ের অনুমতি নিয়েছেন আগেই। তবে পারিবারিক কারণে প্রধানমন্ত্রীকে না জানিয়েই বিয়ে করেছেন। কোনো অনুষ্ঠানও করেননি। প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে না পারার কারণেই বিয়ের কথা গোপন রেখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের খবর জানাতে চেয়েছিলেন তিনি।

নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, বিয়ের কথা অস্বীকার করিনি, শুধু খবর গোপন রেখেছিলাম। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে সবাইকে জানিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করব। আর বিয়ের কথা না বলা ছিল ‘বাত কি বাত’ মাত্র। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল না।

শাম্মী আক্তারের বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম মিলন মুঠোফোনে বলেন, তারা দুই ভাই, এক বোন। শাম্মী সবার ছোট। এর আগে কুষ্টিয়ায় বোনের বিয়ে হয়েছিল। সেখানকার একটি কন্যাসন্তানও আছে তাঁর। শাম্মী আক্তার বর্তমানে ঢাকার উত্তরায় থাকেন। আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। হাইকোর্টে এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর জুনিয়র হিসেবে আইন প্র্যাকটিস করছেন। পাশাপাশি ঢাকার একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।

বিয়ের বিষয়ে জাহিদুল বলেন, বেশ কিছুদিন আগে আইন বিষয়ে পরামর্শ নিতে রেলমন্ত্রীর কাছে যান। সেখান থেকেই পরিচয়। পরবর্তী সময়ে আলোচনার মাধ্যমে পারিবারিকভাবে ৫ জুন বিয়ে সম্পন্ন হয়। করোনার কারণে কোনো আনুষ্ঠানিকতা হয়নি, সম্পূর্ণ ঘরোয়াভাবে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বিয়েতে তারা দুই ভাই উপস্থিত ছিলেন।

বিরামপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র লিয়াকত আলী জানালেন, বিয়ের আলোচনা ঢাকা থেকে শুরু হলেও বিয়ের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (পিডিবি) চাকরি করতেন শাম্মী আক্তারের বাবা। তাদের আদি নিবাস ছিল পাবনা জেলায়। পরবর্তী সময়ে বাবার চাকরির সুবাদে প্রায় ৩৫ বছর আগে বিরামপুরে চলে আসেন তারা।।তারপর বিরামপুরের নতুন বাজার এলাকায় জায়গা কিনে বাড়ি তৈরি করে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান।

নূরুল ইসলাম ১৯৫৬ সালের ৫ জানুয়ারি পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আইনপেশায় জড়িত রেলমন্ত্রী ব্যক্তিজীবনে এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। তিনজনেরই বিয়ে দিয়েছেন। গত ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে তাঁর স্ত্রী নিলুফার জাহান মৃত্যুবরণ করেন। তিনি পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসন থেকে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য এবং পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পরে তিনি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। তাঁরবড় ভাই প্রয়াত আইনজীবী সিরাজুল ইসলামও জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নূরুল ইসলামও একজন আইনজীবী।

আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে রেলমন্ত্রী ছিলেন মুজিবুল হক। মন্ত্রী হওয়ার পর ৬৭ বছর বয়সে ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর হনুফা আক্তার রিক্তাকে বিয়ে করেন তিনি। তবে সেটি ছিল তার প্রথম বিয়ে। চিরকুমার এই রাজনীতিকের ওই বিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।