জায়গার অভাবে দিনাজপুরে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ খাদ্য গুদামে জায়গার অভাবে সরকারি চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে সংগ্রহ অভিযান। চাল দিতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন মিল মালিকরা।

সেতাবগঞ্জ সরকারি খাদ্য গুদামে ১৬ হাজার ১শ’ ২০ টন চাল ও ১ হাজার ৮২ টন ধান এবং ২শ’ ৮১ টন গম সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। অথচ গুদামে চালের ধারণক্ষমতা ৭ হাজার ২শ’ টন। ফলে ৭ হাজার ২শ’ টন চাল রাখার পর, গুদামে আর জায়গা নেই। এদিকে ১ হাজার ৮২ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, পাওয়া গেছে মাত্র ১৫ টন। তবে গম কেনা রয়েছে ২শ’ ৮১ টনই। সেতাবগঞ্জ খাদ্যগুদামে ১ হাজার টন ধারণক্ষমতার দুটি এবং ৫শ’ মেট্রিক টনের ছয়টি গুদাম রয়েছে। যার সর্বমোট ধারণক্ষমতা হলো ৭ হাজার ২শ’ টন চাল, ১ হাজার ৮২ টন ধান আর ২শ’ ৮১ টন গম।

সরকারি বরাদ্দ মোতাবেক চলতি মৌসুমে বোচাগঞ্জ উপজেলার ২শ’ ৮০ জন চালকলের মালিক চাল দেওয়ার জন্য খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেন। চুক্তি মোতাবেক ২শ’ ৪৯টি সাধারণ চালকলের মালিক ৪ হাজার ১শ’ ৪১ মেট্রিক টন এবং ৩১টি স্বয়ংক্রিয় চালকলের মালিক ১১ হাজার ৯শ’ ৮৬ মেট্রিক টন চাল গুদামে সরবরাহ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। কিন্তু গুদামে জায়গার অভাব চলছে শুরু থেকেই। গত ১ মে সরকারি ক্রয় অভিযান শুরু হয়েছে। কিন্তু গত৯ জুন বুধবার পর্যন্ত চাল সংগ্রহ হয়েছে ৭ হাজার ২শ’ টন। চাল প্রস্তুত করে গুদামে ঢোকানোর চেষ্টা করেছেন মিলাররা। কিন্তু জায়গার অভাবে তারা ব্যর্থ হচ্ছেন। এতে আর্থিকভাবে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন মিল মালিকেরা।

বোচাগঞ্জ জহুরা স্বয়ংক্রিয় চালকলের মালিক আবদুল হান্নান বলেন, ‘গুদামে প্রয়োজনীয় জায়গা না থাকায়, আমরা চাল নিয়ে বিপাকে পড়েছি। চাল ফেলে রেখে বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’ একই কথা বলেন বোচাগঞ্জ সোনালী অটো রাইস মিলের মালিক আকিল আহমেদ ও ডিএন অটো রাইস মিলের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান। বোচাগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক নুরন্নবী বলেন, গুদামের চাল বাইরে গেলেই জায়গা খালি হবে। মালিকেরা চাল দিতে পারবেন খুব শিগগিরই।