আইপি জটিলতা কেটে যাওয়ায়, পেয়াজের দাম আরও কমলো

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : আইপি জটিলতা কেটে যাওয়ায় হিলি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি বেড়েছে। এতে ধারাবাহিকভাবে কমছে পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজিতে আরও ২ থেকে ৩ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে পেয়াজ। আমদানি বাড়ার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে পেয়াজের দাম কমায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এদিকে বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়লে দাম আরও কমে আসবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

হিলি স্থলবন্দর ও জেলার বিভিন্ন আমানিকারকদের গুদাম ঘুরে দেখা গেছে, বন্দর দিয়ে ইন্দোর ও নাসিক জাতের পেয়াজ আমদানি হচ্ছে। একদিন আগেও এসব জাতের প্রতি কেজি পেয়াজ ৩০ থেকে ৩২ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ২৭ টাকা থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৩ জুন বন্দর দিয়ে চার ট্রাকে ৯৫ টন পেয়াজ আসে। ৫ জুন ৯ ট্রাকে আসে ২শ’ ১৩ টন, ৭ জুন ১৫ ট্রাকে ৩শ’ ৯৭ টন, ৮ জুন ২২ ট্রাকে ৫শ’ ৮৫ টন, ৯ জুন ২৭ ট্রাকে ৭শ’ ৪১ টন, ১০ জুন ৩৬ ট্রাকে এক হাজার ৩৫টন পেয়াজ আমদানি হয়েছে। এ নিয়ে গত ছয় দিনে বন্দর দিয়ে ১শ’ ১৩ ট্রাকে তিন হাজার ৬৬ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরে রংপুর থেকে পেয়াজ কিনতে আসা পাইকার শামীম হোসেন বলেন, বন্দর থেকে পেয়াজ কিনে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করি। তবে দীর্ঘ একমাসের বেশি সময় ধরে বন্দর দিয়ে পেয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় আমরা একেবারে বসেছিলাম। সম্প্রতি আবারও বন্দর দিয়ে পেয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। আমার মতো দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও অনেক পাইকার এসেছেন পেয়াজ কিনতে। আর দাম আগের চেয়ে কম থাকায় কিনতেও যেমন সুবিধা হয়েছে, তেমনি মোকামে ভালো চাহিদা থাকায় ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেয়াজ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, আমদানির জন্য ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) নিয়ে যে জটিলতা ছিল, ইতোমধ্যে তা কাটিয়ে উঠা গেছে। দেশের বাজারে পেয়াজের মূল্য স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে আসতে সরকার নতুন করে ব্যাপক পরিমাণে পেয়াজের আইপি ইস্যু করায় হিলিসহ দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে একমাসের বেশি সময় ধরে পেয়াজ আমদানি বন্ধের পর গত ৩ জুন থেকে আমদানি শুরু হয়েছে। আগে আমদানি না হওয়ায় বাজারে পণ্যটির সরবরাহ কমে গিয়েছিল। এতে দাম বেড়ে যায়। এখন সরবরাহ বাড়ায় অবস্থা স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, শুধু ভারত থেকে নয়, মিয়ানমার থেকেও দেশে পেয়াজ আমদানি হওয়ায় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। একইভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে দেশীয় মোকামগুলোতে যে পেয়াজের স্টক করেছিলো ব্যবসায়ীরা, সেগুলো ছেড়ে দেওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। সামনের দিনে আমদানি বাড়লে দাম আরও কমে আসবে বলে জানান তিনি।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, আইপি শেষ হয়ে যাওয়ায় ২৯ এপ্রিল থেকে বন্দর দিয়ে পেয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি আমদানিকারকরা আইপি পাওয়ায় একমাসের বেশি সময় বন্ধের পর ৩ জুন থেকে বন্দর দিয়ে পেয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথমের দিকে আমদানি কিছুটা কম থাকলেও, ধীরে ধীরে তা বাড়তে শুরু করেছে। এতে বন্দরের দৈনন্দিন আয় যেমন বেড়েছে, তেমনি বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের আয়ও বেড়েছে।