অভিজ্ঞ জিয়া-তানভিরে ম্লান তরুণ শামীমের সাইক্লোন

মিরর স্পোর্টস : প্রথম ইনিংসে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সত্যিকারের আমেজটা এনে দিয়েছিলেন শামীম হোসেন। খেলেছিলেন ২০ বলে ৪৯ রানের সাইক্লোন ইনিংস। কিন্তু ম্যাচ শেষে পরাজিত দলে তিনি। কেননা দ্বিতীয় ইনিংসে দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচ শেষ করেছেন দুই অভিজ্ঞ জিয়াউর রহমান ও তানভির হায়দার।

চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে প্রথম পাঁচ রাউন্ড শেষে একমাত্র অপরাজিত দল ছিল প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। এখন তারাই হেরে গেল পরপর দুই ম্যাচ। শুক্রবার শেখ জামাল ধানমন্ডির বিপক্ষে ১৬৬ রানের সংগ্রহ নিয়েও ৩ উইকেটে হেরেছে দোলেশ্বর। শেখ জামালের জয়ের নায়ক জিয়াউর রহমান।

বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভাল ছিল না দোলেশ্বরের। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান ফজলে মাহমুদ রাব্বি। শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়েন ইমরানউজ্জামান ও সাইফ হাসান। সাইফ আউট হন ২২ রান করে।

এবারের আসরে চমক হিসেবে আবির্ভূত ইমরানউজ্জামান তুলে নেন ফিফটি। দলীয় সংগ্রহ একশ রান পার করার পর ১৫তম ওভারের প্রথম বলে আউট হন তিনি। ততক্ষণে তার নামের পাশে জমা পড়েছে ৪৬ বলে ৬৫ রান। যেখানে ছিল ৪টি করে চার ও ছয়ের মার।

ইনিংসের ৩৫ বল বাকি থাকতে উইকেটে আসেন শামীম হোসেন। এই ৩৫ বলে ৬৫ রান যোগ করে দোলেশ্বর। যেখানে শামীমের একার অবদান ৪৯ রান। শেখ জামালের বোলারদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ২ চার ও ৫ ছয়ের মারে ২০ বলে ৪৯ রানের ইনিংস খেলে।

তবে শামীমের এই সাইক্লোন ইনিংস ম্লান হয়ে যায় জিয়া ও তানভিরের জুটিতে। ১৬৭ রানের বড় লক্ষ্যে মাত্র ৪২ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে শেখ জামাল। এই ম্যাচের একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তার জায়গায় ওপেনিংয়ে নামা নাসির হোসেন করেন ১৪ রান, আরেক ওপেনার সৈকত আলির ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান।

তিন নম্বরে নামা ইমরুল কায়েস সাজঘরে ফেরেন শূন্য রানে, ইলিয়াস সানি করেন ৮ রান। ইনিংসের দশম ওভারের শেষ বলে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান, করেন মাত্র ১৭ রান। তখনও জয়ের জন্য দশ ওভারে ৯৫ রান দরকার ছিল, হাতে মাত্র ৫ উইকেট নিয়ে।

সেখান থেকে মাত্র ৫১ বলে ৮৩ রানের জুটি গড়েন জিয়া ও তানভির। তাদের এ জুটিতেই মূলত জয়ের সুবাস পায় শেখ জামাল। তবু ১৯তম ওভারে মাত্র ৭ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। কিন্তু শেষ ওভারে ১২ রান ঠেকাতে পারেননি অধিনায়ক ফরহাদ রেজা।

দলকে প্রায় জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়ে মাত্র ৩৩ বলে ৫৩ রান করে আউট হন জিয়াউর রহমান। তার ইনিংসে ছিল ১ চার ও ৫টি বিশাল ছয়ের মার। জিয়া আউট হলেও ৪৫ রানে অপরাজিত ছিলেন তানভির। শামীমের ৪৯ রানের মতোই বিফলে গেছে কামরুল রাব্বির ২৪ রানে নেয়া ৪ উইকেট।