মোহামেডানকে লজ্জার রেকর্ড থেকে বাঁচালেন শুভাগত হোম

মিরর স্পোর্টস : টিম মোহামেডান, অধিনায়ক, সতীর্থ, কোচ, কর্মকর্তা, ভক্ত ও সমর্থকরা শুভগতহোম চৌধুরীকে বিশেষ ধন্যবাদ দিতেই পারেন। ময়মনসিংহের এ অলরাউন্ডার যে আজ সাদা-কালোদের এক বিরাট লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছেন!

শুভাগত না দাঁড়ালে আজ ঢাকা তথা বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হবার লজ্জায় ডুবতো মোহামেডান। শেরে বাংলায় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে মাত্র ১৯ রানেই ইনিংসের অর্ধেক আর ২৭ রানে দলটির পতন ঘটেছিল ৬ উইকেটের।

তখন প্রেসবক্সে ঘাঁটাঘাটি শুরু হয়ে গেল, ঢাকা ও বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হবার রেকর্ড কত এবং কোন দলের? বের হলো, বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ডটি খুলনা টাইটান্সের।

২০১৬ সালের বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে মাত্র ৪৪ রানে অলআউট হয়েছিল খুলনা টাইটান্স। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ৪৫ রানে অলআউট হয়েছিল মোহামেডান, সেটা ২০১৩ সালে বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টি আসরে প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে।

শেষ পর্যন্ত সেই কম রানে অলআউট হওয়ার লজ্জা থেকে এবারের মতো বেঁচে গেল মোহামেডান এবং সেটা শুভগতহোমের হাত ধরে। চরম বিপদে সাত নম্বরে নেমে শুভগত খেলেছেন ৫২ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস। ৩২ বলে সাজানো ওই ইনিংসে ছিল ৫টি ছক্কাও হাঁকান। তার হাত ধরেই ৯ উইকেটে ১১৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করাতে পেরেছে মোহামেডান।

মোহামেডানের পুরো ইনিংসে আর দু’জন মাত্র ব্যাটসম্যান দুই অংকে পা রেখেছেন। একজন বাঁহাতি ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন (২০ বলে ১০), অন্যজন পেসার আবু হায়দার রনি (২৫ বলে ১৫)।

দলটির তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান-ওপেনার মাহমুদুল হাসান লিমন, অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আর পাঁচ নম্বরে নামা নাদিফ চৌধুরী প্রত্যেকেই শূন্য রানে সাজঘরের পথ ধরেন।

সোহাগ গাজী, মোহাম্মদ শহীদ আর নাঈম ইসলামের সাঁড়াশি বোলিংয়ে মোহামেডান ব্যাটসম্যানদের আউট হবার ধরন দেখে মনে হচ্ছিল তারা ব্যাটিংই ভুলে গেছেন।

প্রথম ভুল পথে হাঁটলেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান লিমন। অফস্পিনার সোহাগ গাজীকে ৫ ডট দেবার পর মরিয়া হয়ে সুইপ খেলতে গিয়ে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়েছেন লিমন।

দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফিরলেন অধিনায়ক সাকিব। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের পেসার শহীদের শর্ট বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে আউট সাইড অফস্টাম্প ফ্ল্যাশ করে থার্ডম্যানে সীমানার কয়েকগজ সামনে ক্যাচ দিলেন সাকিব। ছয় ম্যাচে এটি তার দ্বিতীয় শূন্য।

এরপর আউট হলেন শামসুর রহমান শুভও, মাত্র ৫ রান করে। তিনিও অহেতুক উইকেট ছেড়ে মারতে গিয়ে উইকেট দিয়ে আসেন। অফস্পিনার সোহাগ গাজীকে আগের বলে স্কোয়ার কাট করে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পরের বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে স্টাম্পড হলেন জাতীয় দলের এ সাবেক টপ অর্ডার।

চার নম্বরে নেমে প্রথম বলেই আউট নাদিফ চৌধুরী। মোহাম্মদ শহীদের অফস্টাম্পের বাইরে হঠাৎ বাড়তি গতি ও লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারিতে হতচকিত হয়ে কট বিহাইন্ড এই ব্যাটসম্যান।

একই অবস্থা ইরফান শুক্কুরেরও। শিক্ষানবীসের মত রান করতে না পেরে অফস্পিনার নাঈম ইসলামের বলে সুইপ করতে গিয়ে শর্ট লেগে ক্যাচ তুলে বিদায় নিলেন এ উইকেটকিপার কাম মিডল অর্ডার।

তারপর একা শুভগতহোমই যা করার করলেন। বাকিরা দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন। শুভগত হোমের ১ চার আর ৫ ছক্কায় ৩২ বলে ৫২ রানের ইনিংসটি শুধু যে কম রানের লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছে তা নয়, মোহামেডান স্কোর ১০০+ও হয়েছে তার জন্যই।

তবে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলা শুভগত শেষ পর্যন্ত প্রশান্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি। রূপগঞ্জ পেসার মুক্তার আলীর বলে কট বিহাইন্ড হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় তার অভিব্যক্তি বলে দিচ্ছিল, বল ব্যাটে লাগেনি। ইনিংসের তখনও ১৭ বল বাকি। শুভাগত শেষ পর্যন্ত খেলতে পারলে হয়তো লড়াকু পুঁজিও পেয়ে যেতো মোহামেডান।