দিনাজপুরে কঠোর বিধিনিষেধের তৃতীয় দিনে কমেছে শনাক্তের হার

স্টাফ রিপোটার : দিনাজপুর্‌ এ কঠোর বিধিনিষেধের তৃতীয় দিন ছিল আজ বুধবার। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মাঠে কাজ করছেন স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও স্কাউট সদস্যরা। গতকাল মঙ্গলবার জেলায় করোনা শনাক্তের হার ছিল ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বুধবার তা কমে ২১ শতাংশে নেমেছে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৭ জন। এর আগে মঙ্গলবার ১৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। ১ থেকে ৭ জুন জেলায় করোনায় নয়জনের মৃত্যু হলেও গত দুই দিনে করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি। জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৩৭।

জেলায় আজকের দিন পর্যন্ত ৪১ হাজার ৭৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ১০১ জনের। ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৫৮৩ জন। সুস্থতার হার ৯২ শতাংশ। বর্তমানে জেলায় ৩৮১ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি ৩৫ জন এবং ৩৪৬ জন হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।

গত এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। বিধিনিষেধ মানাতে শহরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান দেখা গেছে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশিং চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তবে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ি লকডাউন করে লাল পতাকা উত্তোলন করার কথা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। শহরের সুইহারি, মডার্ন মোড়, মহারাজা মোড়, হাসপাতাল মোড়, ফুলবাড়ী বাসস্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্বাস্থ্যসচেতনতার বার্তাসহ মাস্ক পরিধানের কথা মাইকে প্রচার করা হচ্ছে। যদিও জনসাধারণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী বলেন, মানুষকে স্বাস্থ্যসচেতন ও মাস্ক পরিধানে বাধ্য করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সমন্বয়ে তিনটি টিম গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। দেড় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে লাল পতাকা টাঙিয়ে বাড়ি লকডাউন করার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে অধিক সংক্রমণ যেসব এলাকায়, তা চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক দাবি করেন, শহরের ৯০ শতাংশ মানুষকে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধির আওতায় আনা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন আবদুল কুদ্দুছ বলেন, গতকালের চেয়ে আজ করোনা শনাক্তের হার কমেছে। জেলায় এখন পর্যন্ত ভারতীয় ভেরিয়েন্ট পাওয়া যায়নি। তবে ভারত থেকে করোনা পজিটিভ হয়ে আসা কয়েকজনের সংস্পর্শে এসে যাঁরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, এমন কয়েকটি নমুনা ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।