টিকায় স্বস্তির সংবাদ

দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে যখন করোনার ভারতীয় ধরন ডেল্টা ভেরিয়েন্টের সামাজিক সংক্রমণ ও মৃত্যু হার বাড়ছে, তখন রাশিয়ার সঙ্গে এক কোটি ডোজ স্পুৎনিক-ভি টিকা কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়টি নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ চীন থেকে দেড় কোটি ডোজ সিনোফার্মের টিকা কেনার বিষয়টিও চূড়ান্ত করেছে। দেশে চীনের তৈরি টিকার প্রয়োগও শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে। সম্প্রতি চীনের সিনোভ্যাক্সের টিকাটিও ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর। ইতোমধ্যে ফাইজারের লক্ষাধিক ডোজ টিকাও দেশে আসার পথে। তদুপরি পাওয়া যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদানের টিকাও। সুতরাং টিকা নিয়ে আপাতত দুশ্চিন্তা নেই বলেই প্রতীয়মান হয়। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সরকার ধাপে ধাপে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে করোনার টিকা দেয়ার আওতায় আনতে ইচ্ছুক, যাতে করোনা প্রতিরোধে কার্যক্রম হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তোলা যায়। করোনার মোকাবেলায় জরুরী চাহিদা মেটাতে এবারের বাজেটে থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরেও বিশ্বব্যাংক দেবে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ৯৪০ মিলিয়ন ডলার। অন্যান্য দাতা দেশ ও সংস্থা থেকেও টিকা কেনার জন্য অর্থ পাওয়া যাবে। প্রতি মাসে টিকা দেয়া হবে ২৫ লাখ মানুষকে। তবে এতকিছুর পরও করোনা মোকাবেলায় সবাইকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধির নিয়ম-কানুন।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোপূর্বে জাতিসংঘ ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাকে করোনার টিকা বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন, যেটি যথার্থ ও সময়োপযোগী। তবে দুঃখজনক হলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ট্রিপস চুক্তির আওতায় টিকার মেধা সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও দাম নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। ফলে সারা বিশ্বে টিকার সুষম বণ্টন ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ হচ্ছে না। টিকা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উন্নয়নশীল ও গরিব দেশগুলো। এই মুহূর্তে অন্তত দেড় শ’ কোটি ডোজ টিকা কিনে নিয়েছে বিশ্বের ৩টি উন্নত দেশ। ফলে বাকি দেশগুলোতে দেখা দিয়েছে টিকার জন্য হাহাকার, যা কাম্য নয় কোন অবস্থাতেই। বাংলাদেশ আপাতত ট্রিপস চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাদেশে টিকা সরবরাহ ও প্রয়োগ করা হচ্ছে সরকারী ব্যবস্থানায় সারাদেশে। এর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ২৬ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীকে। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মোকাবেলার জন্য তৈরি হয়েছে নির্দেশিকা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশেষ সাফল্য রয়েছে, যার স্বীকৃতি মিলেছে জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক। বাংলাদেশ যথাসময়ে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকাদানের মাধ্যমে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা। এক্ষেত্রে বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতও তার প্রতিশ্রুতি তথা চুক্তির মর্যাদা রক্ষা করে টিকা পাঠাতে পারে। বিকল্প দেশ থেকেও টিকা সংগ্রহের পাশাপাশি দেশেই টিকা তৈরির সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে। গ্লোব বায়োটেকের দেশীয় টিকাটি নিয়েও অগ্রসর হওয়া যেতে পারে।