৭৫ দশিমক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ভাসল চট্টগ্রাম

চট্রেোম প্রতিনিধি :  সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৭৫ দশমিক ৪ মিলি মিটার বৃষ্টিতে ভেসে গেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। সকাল থেকেই ভারী মেঘাচ্ছন্ন থাকা আকাশ থেকে বৃষ্টি নামতে শুরু করে সকাল ৯টার দিকে। এরপর ঝুম বৃষ্টি। মুহূর্তেই পানি বাড়তে থাকতে থাকে নিম্নাঞ্চলে। এরপর শুরু হয় জলজট। সেই সঙ্গে যানজট। দুপুর সাড়ে ১২টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে আছে।

এই জলাবদ্ধতার সঙ্গে কর্ণফুলী নদীর জোয়ার যোগ দেওয়ায় পথচারীদের দুর্ভোগ বেড়েছে বহুগুণ। কিছু গাড়ি চলাচল করেছে হেডলাইড জ্বালিয়ে। কিছু রিকশা কোমর পানিতে টেনে নিচ্ছেন চালকেরা। আর কিছু গাড়ি আটকে ছিল পানিতে। এমন দুর্ভোগতর পথ পাড়ি দিয়ে অফিসগামী কর্মজীবীদের পৌঁছতে হয়েছে অফিসে।

বৃষ্টির বিষয়ে পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. শহীদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, আজ রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৭৪ দশমিক ৪ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর কর্ণফুলী নদীর জোয়ার স্বাভাবিক প্রায় ৪ দশমিক ৫ ফুট উচ্চতায় ছিল। পরবর্তী জোয়ারের সময় সন্ধ্যায়।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী এখনো বর্ষার আগমন বাকি আছে প্রায় এক সপ্তাহ। কিন্তু সপ্তাহখানেক আগেই বর্ষার রূপ দেখেছে চট্টগ্রামবাসী। জলাবদ্ধতার সঙ্গে কাদা পানিতে ভেসে ভেসে অফিসে পৌঁছতে হয়েছে। আর অধিকাংশ শ্রমজীবীদের দিন হয়েছে কর্মশূন্য।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জুন মাসের পূর্বভাসে বলা হয়েছে, জুন মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হবে। দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বিস্তার লাভ করায় অনুকূল পরিবেশ থাকতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৭৫ মিলিমিটার। দিনের পরবর্তী সময়ে এই পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

এবার বর্ষা মৌসুমেও চট্টগ্রাম মহানগরী অতীতের মতো জলাবদ্ধতায় মগ্ন থাকবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। চাক্তাই খাল ও হিজড়া খাল পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। আবার সিডিএ’র উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার প্রকল্পওটি এখনো শেষ হয়নি। এই প্রকল্পের কাজ এখন চলমান। ফলে নগরীর ছোট খাল, নালা ও নর্দমাগুলো পুরোদমে সচল হয়নি। এই কারণে চলতি বর্ষা মৌসুমেও জলাবদ্ধতার সঙ্গেই পার করতে হবে চট্টগ্রামবাসীর।