এক মাস পর ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : এক মাস চার দিন পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। পেঁয়াজ আমদানির ফলে দেশের বাজারে দাম কমবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে দেশের কৃষকের উৎপাদিত পেঁয়াজের দাম নিশ্চিত করতে আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকালে ভারত থেকে চার ট্রাকে ৯৫ টন পেঁয়াজ আসার মধ্য দিয়ে আমদানি শুরু হলো।

হিলি স্থলবন্দরের মেসার্স রাইয়ান ট্রেডার্স এসব পেঁয়াজ আমদানি করেছে। যার স্বত্বাধিকারী আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম। এখন পর্যন্ত আমদানি করা পেঁয়াজ বেচাকেনা শুরু হয়নি। তবে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৩৪-৩৫ টাকা বিক্রি হবে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মোবারক হোসেন ও মামুনুর রশিদ জানান, অনুমতি না থাকায় এবং সরকার নতুন করে আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) না দেওয়ায় গত ২৯ এপ্রিল থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল।

তারা জানান, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। আইপি দেওয়া বন্ধের পরপরই আমদানিকারকরা আইপি চেয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেটি গ্রহণ করা হয়নি। ফলে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত কয়েক দিনে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে দাম। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশে পেঁয়াজের ব্যাপক চাহিদার কথা বিবেচনায় এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বুধবার (২ জুন) আবেদন গ্রহণ করা হয়। আইপি ইস্যু করে আমরা দুই জন পাঁচ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেয়েছি। এরইমধ্যে ৯৫ টন চলে এসেছে।

মোবারক হোসেন বলেন, আমাদের মতো বন্দরের আরও অনেক আমদানিকারক কয়েক হাজার টন পেঁয়াজের আইপি পেয়েছেন। আগামী সপ্তাহে ভারত থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আমদানি হবে। এতে দেশে পেঁয়াজের দাম কমবে। ৩৪-৩৫ টাকায় নেমে আসবে পেঁয়াজের কেজি।

হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, দেশের কৃষকের উৎপাদিত পেঁয়াজের দাম নিশ্চিত ও কৃষকদের চাষে উদ্বুদ্ধ করতে আমদানি বন্ধ রাখতে আইপি দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছিল। গত ২৯ এপ্রিল থেকে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল।

তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে আমদানির অনুমতি দেয় মন্ত্রণালয়। বুধবার থেকে আমদানিকারকদের কাছ থেকে পেঁয়াজের আইপির জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়। এ পর্যন্ত বিভিন্ন আমদানিকারককে ৩৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আমদানি শুরু হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, এক মাসের বেশি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। অবশেষে চার ট্রাকে ৯৫ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। পেঁয়াজ যেহেতু কাঁচামাল সেহেতু কাস্টমসের প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত বন্দর থেকে খালাসের ব্যবস্থা করা হবে।