১২০ তাড়া করতে গিয়ে হারতে বসেছিলেন তামিম-মিঠুনরা

মিরর স্পোর্টস : জিততে হলে করতে হবে ১২০ রান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই রান তো কয়েক ওভার হাতে রেখে হেসেখেলেই পেরিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তামিম-মিঠুনদের এই লক্ষ্য তাড়া করতেই নাভিশ্বাস উঠলো।

একটা সময় তো হারের শঙ্কাও পেয়ে বসেছিল। শেষ পর্যন্ত রাকিবুল হাসান আর নাঈম হাসান মাথা ঠাণ্ডা রেখে বিপদ কাটিয়ে দলকে জয় এনে দিয়েছেন। মিরপুরে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে ৩ উইকেট আর ৩ বল হাতে রেখে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়কে (৫) হারালেও তামিম ইকবালের ব্যাটে একটা সময় সহজ জয়ের পথেই ছিল প্রাইম ব্যাংক। কিন্তু ২৭ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ৩২ রান করে তামিম ফিরতেই হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তাদের মিডল অর্ডার।

১৪ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারায় প্রাইম ব্যাংক। এর মধ্যে ছিলেন দারুণ খেলতে থাকা রনি তালুকদারও (১৫ বলে ২৬)। মোহাম্মদ মিঠুন ৬ রানে রানআউট হন, অলক কাপালি সাজঘরে ফেরেন ১ রানে।

৮৯ রানে তখন ৭ উইকেট নেই প্রাইম ব্যাংকের। সেখান থেকে দলকে টেনে তুলেন রাকিবুল আর নাঈম। রাকিবুল যদিও টেস্টের মতো খেলেছেন। ৩৪ বলে অপরাজিত থাকেন ১৮ রানে। তবে দলের বিপদের মুহূর্তে তার এই ইনিংসটিকে মহামূল্যবানই বলতে হবে। তার সঙ্গে ১৬ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম।

শাইনপুকুরের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল তানভীর ইসলাম। ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান খরচায় ৩টি উইকেট নেন ২৪ বছর বয়সী বাঁহাতি এই স্পিনার।

এর আগে ব্যাটিংয়ে টি-টোয়েন্টির আমেজ ছিল না শাইনপুকুরেরও। বরং ধুঁকতে ধুঁকতে কোনোমতে ২০ ওভার পার করে দলটি। মোস্তাফিজুর রহমান, মনির হোসেন, নাঈম হাসানদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পুরো ওভার খেলে ১১৯ রানে অলআউট হয় তারা।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে শাইনপুকুর। ওপেনার সাব্বির হোসেন (১৪ বলে ১৫) ফেরার পর ধীরগতির ব্যাটিং করতে থাকে দলটি। একটা পর্যায়ে ১ উইকেটে ছিল ৫৫ রান। ইনিংসের নবম ওভারও তখন পার হয়ে গেছে।

টি-টোয়েন্টির আমেজ ফেরানো তো দূরের কথা, এরপর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে শাইনপুকুরের ইনিংস। ২০ রান তুলতে আরও ৫ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বসে দলটি।

ধীরগতির ব্যাটিং করে একে একে সাজঘরের পথ ধরেন রবিউল ইসলাম (২০ বলে ১৮), তানজিদ হাসান (২৮ বলে ২১), মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (২ বলে ০), মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী (৪ বলে ২), সাজ্জাদুল হকরা (৬ বলে ৪)।

৭৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর তৌহিদ হৃদয় দলকে একটু এগিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু ২৫ বলে ২ বাউন্ডারি আর এক ছক্কায় ২৯ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে ১৮তম ওভারে এসে সাজঘরের পথ দেখান মোস্তাফিজুর রহমান।

শেষদিকে লোয়ার অর্ডারের রবিউল হক ১৩ বলে অপরাজিত ১৬ রানের ইনিংস খেলে কোনোমতে ১১৯ রান পর্যন্ত নিয়ে গেছেন শাইনপুকুরকে।