সামাজিক সংক্রমণ

দেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে দিন দিন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই নতুন সংক্রমণের খবরাখবর পাওয়া যাচ্ছে। এর পাশাপাশি নতুন আতঙ্ক ও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস, হোয়াইট ফাঙ্গাস, ইয়োলো ফাঙ্গাস নিয়েও, যা করোনা আক্রান্ত রোগীর চোখকে আক্রান্ত করে এবং দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয়াসহ রোগীকে ঠেলে দেয় মৃত্যুর মুখে। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের কয়েকজন রোগীর রাজধানীর বারডেম হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যুর খবরও আছে। এসব আক্রান্ত রোগীর ভারত ভ্রমণ করে দেশে ফেরার রেকর্ড রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন সীমান্ত বন্ধ থাকার পরও, যা বাড়ানো হয়েছে ১৫ জুন পর্যন্ত, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি রীতিমতো উদ্বেগজনক ও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা আক্রান্ত রোগীদের ভারতে যাওয়া-আসার কোন খবর নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক সংক্রমণের কারণেই ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট। যা প্রতিরোধ করতে হবে সর্বতভাবে, সর্বাত্মক উপায়ে। এর জন্য সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিশেষ করে অঞ্চলভিত্তিক কঠোর লকডাউন এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এর জন্য সীমান্তবর্তী এলাকায় যাতে কোন ভীতিকর পরিবেশ বা আতঙ্ক সৃষ্টি না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এক্ষেত্রে বরং পাস্পরিক সহযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেড, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অক্সিজেন সরবরাহ জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সমধিক গুরুত্ব আরোপ করতে হবে করোনার টিকাদান কর্মসূচীর ওপর।

সরকার তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষিত লকডাউনের মেয়াদও বেড়েছে ৭ জুন পর্যন্ত, যা বাড়তে পারে আরও ৭ দিন। তবে এবার দীর্ঘ ৪৯ দিন প্রায় সব রকম গণপরিবহন বন্ধ থাকার পর খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন থেকে দূরপাল্লার বাস-ট্রেন-লঞ্চ-স্টিমারসহ সব রকম গণপরিবহন চলছে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। অর্থাৎ দুই সিটে একজন যাত্রী, মুখে মাস্ক পরাসহ স্যানিটাইজার ব্যবহার সর্বোপরি সামাজিক দূরত্ব রক্ষার নিয়ম মেনে। উল্লেখ্য, গণপরিবহন চালুর দাবি নিয়ে ইতোমধ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে দফায় দফায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ হয়েছে। বাস্তবতা এই যে, পরিবহন খাতের সঙ্গে লাখ লাখ মালিক-শ্রমিক-ড্রাইভার-হেলপার জড়িত-যাদের দৈনন্দিন জীবন-জীবিকার বিষয়টি মোটেও উপেক্ষণীয় নয়। প্রধানত তাদের কথা ভেবেই বোধকরি সরকার কিছুটা হলেও নমনীয় হয়েছে। গত ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে গ্রামগঞ্জ ও কর্মস্থলে চলাচলকারী অগণিত মানুষের অসহনীয় চরম দুর্ভোগের বিষয়টিও সরকার মাথায় রেখেছে নিশ্চয়ই। এখন গণপরিবহন মালিক ও শ্রমজীবীদের সবিশেষ দায়িত্ব রয়েছে স্বাস্থ্যবিধি পালনসহ যথাযথ নিয়ম মানার। সামনেই আসছে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা। তখন যেন আবার নিয়মের ব্যত্যয় না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে সব পক্ষকে। এক্ষেত্রে সরকারের কঠোর নজরদারিও প্রত্যাশিত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল-রেস্তরাঁ খুলে দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ খাতেও কয়েক লাখ মালিক-বয়-বেয়ারা বাবুর্চির রুজি রোজগার জড়িত। তবে সবক্ষেত্রে সবাইকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। সর্বস্তরে এক্ষেত্রেও ব্যাপক জনসচেতনা সৃষ্টির কোন বিকল্প নেই। ইতোপূর্বে জনদুর্ভোগ বিবেচনায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা লঞ্চ-স্টিমার-ট্রেন-বাসসহ সব রকম যানবাহন খুলে দেয়ার কথা বলেছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে। তা না হলে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টসহ তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে। সরকার বিষয়টি আমলে নিয়েছে শেষ পর্যন্ত। এখন অত্যাবশ্যক সর্বস্তরে টিকা দান কর্মসূচী জোরদারসহ সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।