শুরু হলো বাজেট অধিবেশন

ঢাকা : মহামারিকালের জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার (২ জুন) বিকেল পাঁচটায় একাদশ সংসদের ত্রয়োদশ এই অধিবেশন শুরু হয়। এই অধিবেশনেই বৃহস্পতিবার বিকেলে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে গত বছরের মত এবারও সংক্ষিপ্ত হবে এই অধিবেশন। এই মহামারির মধ্যে অনুষ্ঠিত অন্য অধিবেশনগুলোর মত এবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংসদ চলবে। এক্ষেত্রে কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ থাকা সংসদ সদস্যরাই অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন।

অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার প্রথমে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন করেন। এবার অধিবেশনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন- শহীদুজ্জামান সরকার, এবি তাজুল ইসলাম, মাজহারুল হক প্রধান, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুমানা আলী। স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এদের মধ্যে অগ্রবর্তীজন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।

পরে স্পিকার শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। চলতি সংসদের সদস্য আবদুল মতিন খসরু, মো. আসলামুল হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী, মেরাজ উদ্দিন মোল্লা, গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলন, খোন্দকার আব্দুল মালেক শহীদুল্লাহ, আবুল হাসেম, মাহবুবুর রহমান, মোহাম্মদ ইউনুস, জিয়াউর রহমান খান, আব্দুল বারী সরদার, দিলদার হোসেন সেলিম, আব্দুর রউফ খান, ফরিদা রহমানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।

এ ছাড়াও ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান খান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের মা ফৌজিয়া মালেক, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সাহিদা আখতার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসান শাহরিয়ার, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী মিতা হক, লোকসংগীত শিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, অভিনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম মহসীন, পরিবেশ অধিদফতরের একেএম রফিক আহাম্মদ, সাবেক প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হারুন-উর-রশিদ, অভিনেতা ওয়াসিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশ-বিদেশে যারা মারা গেছেন তাদের মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য শোক প্রকাশ করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে নৌ দুর্ঘটনা, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলায় নিহত, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ভারত ও বাংলাদেশে হতাহতদের জন্য শোক প্রকাশ হয়।

চলমান সংসদের কোনও আইনপ্রণেতা মারা গেলে সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে সংসদের বৈঠক মুলতবির রেওয়াজ রয়েছে। চলতি সংসদের সদস্য কুমিল্লা-৫ আসনের আবদুল মতিন খসরু গত ১১ মার্চ মারা যান। গত ৪ এপ্রিল ঢাকা-১৪ আসনের সদস্য আসলামুল হক মারা যান।

মহামারির কারণে গত বছর মাত্র ৯ কার্যদিবস চলে বাজেট অধিবেশন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত। গতবারের বাজেট অধিবেশনের মত এবারও তালিকা করে সংসদ সদস্যরা বৈঠকে অংশ নেবেন। প্রতিটি কার্যদিবসে উপস্থিতি সংখ্যা ১০০ থেকে ১২০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে। এক্ষেত্রে একজন সংসদ সদস্য ৩ থেকে ৪ কার্যদিবস অধিবেশনে যোগ দেবেন।

যোগদানের জন্য তাদের করোনাভাইরাস নেগেটিভ সনদ থাকা বাধ্যতামূলক। একদিন কোভিড-১৯ টেস্টের নেগেটিভ ফলাফলের ভিত্তিতে পরপর দুইদিন অধিবেশনে যোগ দেওয়া যাবে। এজন্য আইনপ্রণেতাদের একাধিকবার নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন পড়বে।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগেই জাতীয় সংসদের হুইপের দফতর থেকে সংসদ সদস্যরা কে কোন দিন যোগ দেবেন তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সংসদ চলাকালীন দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশও সীমিত করা হচ্ছে এই অধিবেশনে। শুধুমাত্র বাজেট পেশের দিন সংসদ ভবনের সাংবাদিক লাউঞ্জে থাকতে পারবেন সাংবাদিকরা।

সাধারণ সময় বাজেট পেশের দিনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সংসদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও এবারও তা হচ্ছে না। মহামারির কারণে গত বছর বাজেট অধিবেশনও তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।