করলা চাষে সাফল্য পেয়েছে দিনাজপুরের কৃষক

খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : করোনার এই সময়ে করলা চাষে ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় হাজারও কৃষক পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে। করলা সবচেয়ে বেশি চাষ ও বিক্রি হয় দিনাজপুরের খানসামায়। বেশি ফলনের পাশাপাশি ব্যয়ও অপেক্ষাকৃত কম। তাই অল্প সময়ে বেশি লাভের কারণে করলা চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক কৃষক পরিবার। করলার মৌসুম শেষের দিকে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন তা বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। এ করলা চাষে যেন নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে খানসামার কয়েক গ্রামের কৃষক।

ওইসব গ্রামের মাঠে মাঠে সবুজ ও হলুদের সমারোহ। সবুজ আর হলুদে ভরে উঠেছে খানসামা উপজেলার পূর্ব হাশিমপুর, পশ্চিম হাশিমপুর, আঙ্গারপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, পূর্ব ডাঙ্গাপাড়া, বালাডাঙ্গা, খামারপাড়া, হোসেনপুর, তেবাড়িয়া, গোবিন্দপুরসহ কয়েকটি গ্রামের করলার ক্ষেতে।

খানসামা এলাকার এসব করলা ক্ষেতে বেশির ভাগই তারা রানীপুকুরি জাতের বীজ বপন করেছে। এ করলা চাষ করে হাসি ফুটেছে ওইসব গ্রামের কমপক্ষে ১০ হাজার কৃষক পরিবারের। ওইসব করলার ক্ষেত এখন করলা’র গ্রাম হিসেবে পরিচিত।

প্রতিদিন ওইসব গ্রাম থেকে শত শত মণ করলা ট্রাক-টেম্পুযোগে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বগুড়া, রংপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাও, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। করলাকে কেন্দ্র করে খানসামার পাকেরহাট, বুড়িরবাজার, তেবাড়িয়া, বাহাদুরবাজার, মরিয়মবাজারে প্রতিদিন বিশাল পাইকারি বাজার বসে। স্থানীয়রাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা এখান থেকে প্রতিদিন ৩০-৩৫ ট্রাক করলা ক্রয় করেন।

খানসামার ডাঙ্গাপাড়ার কৃষক আইনুল হক জানান, তার ২ বিঘা জমিতে এবার করলা চাষ করেছেন। এরই মধ্যে প্রায় এক লাখ টাকার করলা বিক্রি করেছি এবং আরও ১ লাখ টাকার অধিক করলা বিক্রি করতে পারবো।

বালাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মনসুর আলী জানান, তার ৬০ শতক ক্ষেতের করলা চাষে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। আর এ পর্যন্ত এক লাখ টাকার করলা বিক্রি করেছি এবং ৬০-৭০ হাজার টাকার করলা আরও বিক্রি করা যাবে।

গোবিন্দপুর মধ্যপাড়ার কৃষক ময়েজ উদ্দিন জানায়, করলা সপ্তাহ খানেক আগে ক্ষেত থেকে ৩৫-৩৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। তবে বর্তমানে ১৯-২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম কমলেও লাভ হবেই।

ক্ষেত থেকে পাইকারি দরে ক্রয় করে ঢাকায় সরবরাহ করে স্থানীয় মনসুর আলী। তিনি জানান, এখন কৃষকের কাছ থেকে ৭০০-৮০০ টাকা মণ ধরে করলা কিনে ঢাকায় বিক্রি করছি ১০০০-১২০০ টাকা মণ দরে।

খানসামা উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে করলা চাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এর আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবার খানসামা উপজেলায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে করলার চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১২/১৪ মে.টন করলা উৎপাদিত হয়েছে। যা বিগত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।