মুচলেকা দিয়ে হাবিপ্রবিতে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে শিক্ষার্থীরা 

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর : স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে পরীক্ষায় অংশ নেবেন হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আগে শিক্ষার্থীদের মুচলেকা দিতে হবে। আগামী ১০ জুন থেকে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ফজলুল হক।

এর আগে সোমবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিনদের উপস্থিতিতে ভার্চ্যুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পরীক্ষা চলাকালে আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীরা মেসে কিংবা বাসায় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেবেন। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম ব্যাচের আটকে থাকা পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ফজলুল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়ার একটি নির্দেশনা হাতে পেয়েছি। তারই আলোকে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের এক–তৃতীয়াংশই ক্যাম্পাসে আছেন। যারা নিজ দেশে আছেন, তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশে ফেরার পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ করে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

রেজিস্ট্রার বলেন, গত বছর করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কারণে, শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ ফি, রোভার স্কাউট ফি, পরিবহন ফি, কেন্দ্রীয় সংসদ ফি, ক্রীড়া ফি মওকুফের জন্য আবেদন করেছেন। সেই আবেদন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর আগেও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফি মওকুফ করা হয়েছে। আগের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের আবেদনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ইমরান পারভেজ বলেন, পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীরা যাতে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা পান, সে লক্ষ্যে মেডিকেল টিম গঠন করা হবে। পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর, গত বছর ১৮ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন কর্তৃপক্ষ। এরপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।