মুসলিম ভ্রাতৃত্বের দাবি

মিরর ডেস্ক : ইসলামের চিরন্তন মূলনীতি হলো মুসলমানের পরস্পর সম্পর্ক হবে ভ্রাতৃত্বের। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।’ (সুরা হুজরাত, আয়াত : ১)

অন্য আয়াতে আল্লাহ এ ভ্রাতৃত্বকে তার অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর আল্লাহর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত :  ১০৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এক মুসলিম অন্য মুসলিমের ভাই, না সে তার প্রতি জুলুম করবে, না তাকে অন্যের হাওলা করবে। যে কেউ তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করবে আল্লাহ তাঁর প্রয়োজন পূরণ করবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৯৫১)

মুসলিম ভ্রাতৃত্বের দাবি

এই ভ্রাতৃত্বের দাবি হলো—ভালোবাসা, সমতা, সহযোগিতা, সাহায্য ও অভিভাবকত্ব। তা নিষেধ করে শত্রুতা, বিদ্বেষ, বিচ্ছিন্নতা, বিশৃঙ্খলা ও সংঘাতে লিপ্তকে। তারা পরস্পরের ক্ষেত্রে তরবারি কোষবদ্ধ রাখবে। এ জন্য হাদিসে বলা হয়েছে, ‘তোমরা অনুমান থেকে বেঁচে চলো। কেননা অনুমান বড় মিথ্যা ব্যাপার। আর কারো দোষ খুঁজে বেড়িয়ো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, পরস্পরকে ধোঁকা দিয়ো না, আর পরস্পরকে হিংসা কোরো না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ কোরো না এবং পরস্পরের বিরুদ্ধাচরণ কোরো না; বরং সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৬৬)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) হিংসা-বিদ্বেষকে মুসলিম উম্মাহর ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তার ক্ষতি ও ভয়াবহতার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের দিকে পূর্ববর্তী উম্মতের ব্যাধি ধেয়ে আসছে। তা হলো হিংসা ও বিদ্বেষ। বিদ্বেষ হলো মুণ্ডনকারী। আমি চুল মুণ্ডানোর কথা বলছি না, কিন্তু তা দ্বিনকে মুণ্ডিয়ে দেয়।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১৪১২)

মহানবী (সা.) আরো বলেন, ‘ একজন মুমিন আরেকজন মুমিনের জন্য ইমারতস্বরূপ, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে। এ কথা বলে তিনি তাঁর হাতের আঙুলগুলো একটার মধ্যে আরেকটা প্রবেশ করালেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৮১)

মুমিনের পারস্পরিক সম্পর্কের ব্যাপারে নবীজি (সা.) বলেন, ‘পারস্পরিক দয়া, ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শনে তুমি মুমিনদের একটি দেহের মতো দেখবে। যখন শরীরের একটি অঙ্গ রোগে আক্রান্ত হয়, তখন শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রাত জাগে এবং জ্বরে অংশ নেয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০১১) ফিকহুল জিহাদ থেকে মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর