করোনা আতঙ্ক : বাংলাবান্ধা বন্দরে আমদানি বন্ধ করলেন ব্যবসায়ীরা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি : করোনার ভারতীয় ধরন ও ফাঙ্গাস আতঙ্কে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানি বন্ধ ঘোষণা করলেন ব্যবসায়ীরা। স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন, ব্যবসায়ীসহ বন্দর-সংশ্নিষ্ট সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে চতুর্দেশীয় এই স্থলবন্দর। তবে জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়দের দাবি, ভারতে করোনা ও ফাঙ্গাস সংক্রমণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থলবন্দর বন্ধ রাখা উচিত।

ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা। ভারতে করোনার ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে এই বন্দর দিয়ে মানুষ পারাপার বন্ধ করে সরকার। তবে জরুরি পণ্য আমদানির নামে প্রতিদিন ভারত ও নেপাল থেকে ৩শ’থেকে ৪শ’ পাথরভর্তি ট্রাক বাংলাবান্ধায় ঢুকছে। এতে করোনাসহ ফাঙ্গাস আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় মানুষসহ ব্যাবসায়ী ও বন্দর-সংশ্নিষ্টরা। এ কারণে স্থলবন্দর বন্ধে জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর বলেন, মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত দেখছি আমাদের ওপারেই ভারতের শিলিগুড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় করোনা মহামারির ভয়াবহ অবস্থা। এখন নতুন করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে সব স্থলবন্দর বন্ধ ঘোষণা করার পরও বাংলাবান্ধা যেমন ছিল, তেমনই চলছে। এই স্থলবন্দরটি পাথরের জন্যই সব সময় জমজমাট থাকে। আপাতত মানুষের যাতায়াত নেই। তবে পাথরবাহী ট্রাক প্রতিদিন ঠিকই আসছে। যেহেতু ভারতের বিভিন্ন এলাকার করোনা পরিস্থিতি ভালো নয়, তাই লকডাউনের মধ্যে পাথর আমদানি বন্ধ রাখা দরকার।

বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান কুদরত ই খুদা মিলন বলেন, শিলিগুড়ি-ফুলবাড়ি হয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক পাথর নিয়ে আমাদের দেশে ঢুকছে। এ নিয়ে এখানকার অধিবাসী হিসেবে আমরা আতঙ্কিত। সীমান্ত এলাকা বাংলাবান্ধাসহ তেঁতুলিয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থা তেমন ভালো না। সামান্য অসুখেই চিকিৎসার জন্য রংপুর-দিনাজপুর যেতে হয়। এখানে একবার করোনা ছড়িয়ে পড়লে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, বন্দর শ্রমিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বসে স্থলবন্দর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্নিষ্টদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, ভারত থেকে আসা ট্রাকের চালকরা আমাদের দেশের অভ্যন্তরে যত্রতত্র চলাফেরা করেন। মূলত এটা নিয়েই তেঁতুলিয়া এবং পঞ্চগড়ের মানুষ আতঙ্কিত। তাই সবার মতামতের ভিত্তিতে স্থলবন্দরে কয়েকদিন আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।