চারশ ছাড়াল শ্রীলঙ্কার লিড, কঠিন মিশন বাংলাদেশের সামনে

মিরর স্পোর্টস : আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে শ্রীলঙ্কার বোলিং কোচ চামিন্দা ভাস বলেছিলেন, চারশর বেশি রানের লক্ষ্য দিতে চান বাংলাদেশকে। সে লক্ষ্যে এখনও পর্যন্ত সফল স্বাগতিকরা। চতুর্থ দিনের মধ্যাহ্ন বিরতি পর্যন্ত চারশ ছাড়িয়ে গেছে তাদের লিড। এটি কোথায় গিয়ে থামবে তা সময়ই বলে দেবে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শেষ হয়েছে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনের খেলা। দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৩৮ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান। আগের ইনিংসে পাওয়া ২৪২ রানসহ তাদের লিড এখন ৪১৪ রানের। দিনের প্রথম সেশনে ৪ উইকেট হারালেও ১৫৫ রান যোগ করেছে স্বাগতিকরা ।

লঙ্কানদের লিড যত বাড়বে ততই কঠিন হবে বাংলাদেশের কাজ। কেননা সেই রান তাড়া করেই জিততে হবে টাইগারদের। নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের। আর রান তাড়া করে জেতার বিশ্বরেকর্ড ৪১৮ রানের। অর্থাৎ ম্যাচ জিততে ইতিহাসই গড়তে হবে মুমিনুল হক, তামিম ইকবালদের।

তৃতীয় দিন শেষ বিকেলে ৭ ওভার ব্যাটিং করে ২ উইকেট হারিয়ে ১৭ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা। আজ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলার ইঙ্গিত দেন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান দিমুথ করুনারাত্নে ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদি মিরাজের ভিন্ন ভিন্ন ওভারে ছক্কা হাঁকান দুজনই।

তবে ম্যাথুজকে বেশিক্ষণ হাত খুলে খেলতে দেননি তাইজুল। ইনিংসের ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে ম্যাথুজকে শর্ট লেগে দাঁড়ানো ইয়াসির আলি রাব্বির হাতে ক্যাচে পরিণত করে সাজঘরে পাঠান তাইজুল। আউট হওয়ার আগে ৩৫ বলে ১২ রান করেন ম্যাথুজ।

এরপর ধনঞ্জয় ডি সিলভাকে নিয়ে জুটি গড়েন করুনারাত্নে। তাদের চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসে ৭৩ রান। দুজনই রান তুলতে থাকেন ওয়ানডে মেজাজে। তাইজুল-মিরাজকে দিয়ে কাজ হচ্ছিল না দেখে ইনিংসের ২১তম ওভারে তাসকিন আহমেদকে আক্রমণে আনেন মুমিনুল।

তবে এক ওভার পরই সরিয়ে দেয়া হয় তাসকিনকে। শেষমেশ পার্টটাইমারের দ্বারস্থ হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সাইফের ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারের শেষ বলে শর্ট লেগে দাঁড়ানো বদলি ফিল্ডার ইয়াসির আলি রাব্বির হাতে ধরা পড়েন ৬৬ রান করা করুনারাত্নে।

অধিনায়কের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ধনঞ্জয়ও। মেহেদি মিরাজের করা ইনিংসের ৩০তম ওভারের তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকান তিনি। পরের বলেই আউটসাইড এজ হয়ে ধরা পড়েন স্লিপে দাঁড়ানো নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে।

আউট হওয়ার আগে ৪ চার ও ১ ছয়ের মারে ৫২ বলে ৪১ রান করেন ধনঞ্জয়। যা শ্রীলঙ্কার রানের গতি কখনও কমতে দেয়নি। এরপর ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৩৮ রান যোগ করেন নিরোশান ডিকভেলা ও পাথুম নিসাঙ্কা। মধ্যাহ্ন বিরতির খানিক আগে তাইজুলের তৃতীয় শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন ২৪ রান করা নিসাঙ্কা।

বাকিসময়ে আর বিপদ ঘটতে দেননি ডিকভেলা ও রমেশ মেন্ডিস। দুজন মিলে ৭.২ ওভার খেলে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে যোগ করেছেন ১০ রান। মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়া পর্যন্ত ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্ত জানায়নি শ্রীলঙ্কা। যার মানে দাঁড়ায় লিড আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা তাদের।