‘লকডাউনে’ আরও ২ হাজার কোটি টাকা যোগ হলো বাজার মূলধনে

অর্থনীতি রিপোর্ট : মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় ‘লকডাউন’ বা বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এই বিধিনিষেধের মধ্যে বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে দেশের শেয়ারবাজার। গত সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে বেড়েছে। এতে লকডাউনের তিন সপ্তাহে বাজার মূলধন প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা বেড়ে গেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকে। এতে সপ্তাহজুড়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। সেই সঙ্গে বেড়েছে সবকটি মূল্যসূচক। পাশাপাশি লেনদেনের গতিও বেড়েছে।

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা।

আগের দুই সপ্তাহেও বড় অঙ্কের মূলধন বাড়ে বাজারটিতে। আগের দুই সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধন বাড়ে ৯ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। এ হিসেবে লকডাউনের তিন সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ল ১১ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। বাজার মূলধন বাড়া বা কমার অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে বা কমেছে।

এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৮২ শতাংশ। আগের দুই সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১৮০ দশমিক ২৫ পয়েন্ট। অর্থাৎ টানা তিন সপ্তাহের উত্থানে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বাড়ল ২২৪ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট। অবশ্য তার আগের চার সপ্তাহ টানা এই সূচকটি কমে। আগের চার সপ্তাহের টানা পতনে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক কমে ৩১৪ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট।

প্রধান মূল্যসূচকরে পাশাপাশি লকডাউনের তিন সপ্তাহেই বেড়েছে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক। গেল সপ্তাহে এই সূচকটি বেড়েছে ২৩ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ। আগের দুই সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৯৭ দশমিক ১৬ পয়েন্ট। এ হিসেবে লকডাউনের তিন সপ্তাহে এই সূচকটি বাড়ল ১২০ দশমিক ৫২ পয়েন্ট।

অপরদিকে ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচকও লকডাউনের তিন সপ্তাহেই বেড়েছে। গত সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছে ১২ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ। আগের দুই সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৩৯ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট। এ হিসেবে তিন সপ্তাহের টানা উত্থানে সূচকটি বাড়ল ৫২ দশমিক ১৬ পয়েন্ট।

সবকটি মূল্যসূচকের উত্থানের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৬২টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে দাম কমেছে ১৪৫টির। আর ৬৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৮৫১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ২১২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বা ২৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫ হাজার ৩২২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৪ হাজার ২৫৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সে হিসেবে মোট লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ৬২ কোটি ৩২ লাখ টাকা বা ২৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসই’র মূল বাজারে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- বেক্সিমকো, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল ফিড, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স, রবি, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স।