আগের চেয়েও দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা

মিরর ডেস্ক : ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে ২২৭ গিগাটন বরফ হারিয়েছে অসংখ্য হিমবাহ। ২০১৫ সালের পর থেকে প্রতি বছরেই সাগরে মিশছে ২৯৮ গিগাটন বরফ। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে গলনাঙ্ক।

উদ্বেগজনক হারে গলে যাচ্ছে বিশ্বের প্রায় সব হিমবাহ। এর ফলে সমুদ্রের উচ্চতা বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি। ঝুঁকিতে পড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি বাসিন্দা।

নতুন এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য। বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী নেচারে বুধবার প্রকাশিত হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনটি।

এতে বলা হয়, সারা পৃথিবীতে প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার হিমবাহ অস্বাভাবিক দ্রুততায় গলে যাচ্ছে। যেভাবে সমুদ্রে পানির উচ্চতা বাড়ছে, তার মূল কারণ হিমবাহের গলণাঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়া।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার টেরা উপগ্রহের ২০০০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাঠানো ছবি বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা জানান, প্রতি বছর গড়ে ২৬৭ গিগাটন বরফ পানিতে পরিণত হচ্ছে।

এ হিসাবে নেই গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফে আবৃত বিস্তীর্ণ অঞ্চল।এক গিগাটন বরফের উচ্চতা এক হাজার ১১৯ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে।

গবেষকরা আরও জানান, ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে ২২৭ গিগাটন বরফ হারিয়েছে অসংখ্য হিমবাহ। ২০১৫ সালের পর থেকে প্রতি বছরেই সাগরে মিশছে ২৯৮ গিগাটন বরফ। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে গলনাঙ্ক।

এর ফলে সমুদ্রের উচ্চতা প্রতি বছর গড়ে শূণ্য দশমিক সাত-চার মিলিমিটার বেড়েছে। মোটের হিসেবে দুই দশকে এ হার ২১ শতাংশের কাছাকাছি।

গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফে ঢাকা বিস্তীর্ণ অঞ্চলের তুলনায় সমুদ্রে ভাসমান বিচ্ছিন্ন হিমবাহের গলনাঙ্ক বেশি। ফলে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য মূলত হিমবাহকেই দায়ী করছেন গবেষকরা।

গবেষণা প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক উলস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষক রবার্ট ম্যাকন্যাব জানান, বরফের ঘনত্ব কমার কারণ বুঝতে সাহায্য করবে এ গবেষণা। আলাদা আলাদা হিমবাহ নিয়ে এর আগে গবেষণা হলেও এতো বিস্তৃীত পরিসরে গবেষণা এটাই প্রথম।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে হিমবাহ ও বরফাচ্ছাদিত অঞ্চলের আয়তন কমে যাচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন বিজ্ঞানীরা।