স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটা

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের তীব্র সংক্রমণে আবারও জনজীবন বিপর্যস্ত, দিশেহারা। সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার সরকারকে কঠোর বিধিনিষেধে অবরুদ্ধতার জাল বিস্তার করতে হয়েছে। দোকানপাট এবং শপিংমলগুলোর ওপরও জারি করা হয় বাধ্যতামূলক বিধিনিষেধ। ১৫ থেকে ২২ এপ্রিল কঠোর লকডাউনের নির্দেশনা আসে সরকারের কাছ থেকে। এখন চলছে পবিত্র রমজান মাস। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের উৎসব অপেক্ষা করছে জনজীবনে। ব্যবসা-বাণিজ্যও উন্মুখ হয়ে থাকে বছরের এই দিনটির প্রত্যাশায়। সারা বছরের আর্থিক লেনদেনের সেরা সময়ও এই ঈদ উৎসব। হরেক রকম ব্যবসা-বাণিজ্যের নানা আয়োজনে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে বিভিন্ন পশরা সাজিয়ে-গুছিয়ে সংশ্লিষ্টরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষাও করে।

করোনার প্রভাবে এমনিতে বিশ্বসহ বাংলাদেশের আর্থিক মন্দাভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এমন সব প্রাসঙ্গিক বিষয়ক বিবেচনায় এনে সরকার সারাদেশের দোকানপাট ও শপিংমলগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। ২৫ তারিখ থেকে নতুন নির্দেশনায় ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট, শপিংমলগুলো খোলা রাখা যাবে। কিন্তু এখানেও প্রশ্ন থেকে যায়, মানুষ এত দুর্ভোগের মধ্যেও করোনা সংক্রমণের ব্যাপারে কতখানি উদ্বিগ্ন? আদৌ ক্রেতারা সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের কেনাকাটা করছেন কিনা? করোনার চরম বিপন্নতায়ও মানুষের মধ্যে ভয় কিংবা আশঙ্কা ছাড়াও কেন সতর্ক-সাবধানতা তৈরি হচ্ছে না সেটাও দুর্বোধ্য। তবে এখন অবধি সেভাবে শপিংমলগুলো ক্রেতার ভিড়ে তেমন জমে ওঠেনি। তবে ক্রমশ ভিড় বাড়বে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার পক্ষে তা কোনভাবেই স্বস্তিদায়ক হবে না। সাধারণ মানুষের কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে। আমরা উৎসবপ্রিয় জাতি। মহিমান্বিত সাংস্কৃতিক, জাতীয় এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে যথাসম্ভব সাড়ম্বরে উদযাপন করাই আমাদের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য। গত বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ, স্বাধীনতা দিবস, ১ বৈশাখ এবং দুটি ঈদ আমরা সেভাবে উপভোগ করতে পারিনি। সেবার এপ্রিল-মে দুই মাসই কঠোর অবরুদ্ধতায় দেশ আটকে ছিল। দোকান মালিক সমিতিও তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য খুলে দিতে সরকারকে বিভিন্ন সময় আবেদন-নিবেদন জানিয়েছে। সে কারণে তারা স্বাস্থ্যবিধি সুরক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতিও নিয়েছে। ঈদের বাজার এখনও তেমনভাবে জমে ওঠেনি। প্রচ- তাপপ্রবাহ, নতুন সংক্রমণ করোনা আতঙ্ক ছাড়াও মুভমেন্ট পাসের কারণে মানুষ এখন অবধি চলাফেরা করতে হিমশিম খাচ্ছে। তবে দিনাজপুর শহরে রাস্তাঘাটের ভিড় চোখে পড়ার মতো। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার কোন চেষ্টাও তেমন দেখা যাচ্ছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এমন ভিড়ের অবতারণা হলে তৃতীয় ঢেউয়েরও আশঙ্কা করছেন। তাই সবার আগে জরুরী করোনার বহুল সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে পালন করা। সেটা বাজার কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতাকেও অত্যন্ত কঠোরভাবে মানতে হবে। এর অন্যথা হলে সামনে আরও বিপদ ঘনিয়ে আসতে সময় নেবে না। আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষেরও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে শপিংমলের সামনে অযাচিত ভিড়ের উৎপাত না ঘটে। দোকান সামলাবেন মালিক কর্তৃপক্ষ। ক্রেতাদেরও দায়-দায়িত্ব কম নয়। প্রত্যেককে নিজের সুরক্ষা নিজেকেই দিতে হবে।