এক অ্যাম্বুলেন্সে ২২ মরদেহ গেল শ্মশানে, মহারাষ্ট্রের করুণ দৃশ্য

মিরর ডেস্ক : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণে টালমাটাল ভারত। গত কয়েকদিন দেশটিতে মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে ঠাঁই হচ্ছে না করোনা রোগীদের। অক্সিজেনের অভাবে ছটফট করে মারা যাচ্ছেন আক্রান্তরা।

এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টুইটারে। এবার তেমনি আরেক করুণ দৃশ্য সামনে এসেছে। একটি অ্যাম্বুলেন্সে ২২টি মরদেহ গাদাগাদি করে সৎকারের জন্য শ্মশানে নেয়ার ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে।

টুইটারে কয়েক সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, মহারাষ্ট্রের বীড জেলার অম্বেজোগাইয়ের স্বামী রামানন্দ তীর্থ মরাঠাওয়াড়ায় সরকারি হাসপাতালের মর্গের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স। তাতে করোনায় মৃতদের দেহ গাদাগাদি করে তোলা হচ্ছে। বস্তাবন্দি মরদেহ দাবিয়ে দাবিয়ে জায়গা তৈরি করে আরও দেহ রাখা হচ্ছে।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মরদেহ এভাবে গাদাগাদি করে তোলার সময় সেখানে পুলিশ উপস্থিত ছিল। মৃত রোগীর স্বজনরা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি করলেও কেউ তাদের কথায় কান দেয়নি। তারা অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ গাদাগাদি করে তোলার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করতে গেলে পুলিশ তা কেড়ে নেয়। মরদেহ সৎকার শেষে স্বজনদের মোবাইল ফেরত দেয় পুলিশ।

এদিকে এ ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মহারাষ্ট্রসহ গোটা ভারতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা ঘটনার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। বীড জেলার প্রশাসক রবীন্দ্র জগতপ বলেন, ‘অম্বেজোগাইয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদি কারও দোষ থাকে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

হাসপাতালের ডিন শিবাজি সুকরে বলেন, ‘সৎকার করতে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য মাত্র দুটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। আমরা আরও অ্যাম্বুলেন্সের দাবি জানিয়েছি। কেউ মারা গেলে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে মরদেহ তুলে দেয়া পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব। তারা কীভাবে শ্মশান বা কবরস্থানে নিয়ে যাবে, তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।’