জলবায়ু সঙ্কট

বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সম্মিলিতভাবে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের ৪০ শতাংশের জন্য দায়ী। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি এশিয়া ও ইউরোপের বড় অর্থনীতির দেশগুলো সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, জলবায়ুর ক্ষতি প্রশমন ও অভিযোজনে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার তহবিল নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে বেশি মনোযোগী হওয়াসহ চারটি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ বিশ্ব নেতাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অতি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার এই দৃঢ় উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত জলবায়ুবিষয়ক দুই দিনব্যাপী ‘লিডারস সামিট’এর উদ্বোধনী সেশনে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় এসব পরামর্শ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের কম রাখতে উন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ কমাতে তাৎক্ষণিক ও উচ্চাভিলাষী এ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণ করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোকেও প্রশমন ব্যবস্থার দিকে অধিক মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

স্মরণযোগ্য মাত্র ছয় মাস আগে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ‘মিডনাইট সারভাইভাল ডেডলাইন ফর দ্য ক্লাইমেট’ শীর্ষক জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত ফোরামের (সিভিএফ) লিডার্স ইভেন্টে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একজন বিশ্বনেতা হিসেবেই তিনি পৃথিবীকে রক্ষায় আর বিলম্ব না করে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, বিভিন্ন দেশের সরকারের শুধু প্যারিস চুক্তির আওতায় জাতীয় অবদানে সন্তুষ্ট থাকা উচিত হবে না। তাদের লক্ষ্য ও অবদান আরও বাড়ানো দরকার। জলবায়ু এবং পৃথিবীর জন্য ‘ক্লাইমেট জাস্টিস’ ধারণাটি অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।

পৃথিবী হলো মানুষসহ কোটি কোটি প্রজাতির আবাসস্থল। পৃথিবীই একমাত্র মহাজাগতিক স্থান যেখানে প্রাণের অস্তিত্বের কথা বিদিত। তবে বর্তমানে জনসংখ্যার ক্রমাগত বৃদ্ধি, বনভূমি হ্রাস, দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিবিধ কারণে চিরচেনা বসবাসযোগ্য পৃথিবী নামক এই গ্রহটি তার প্রাণ ধারণের ক্ষমতা ক্রমেই হারাতে বসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই আশঙ্কা জলবায়ু বিজ্ঞানীরা অনেক আগেই জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান ওয়াচের ২০১০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত গোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতির বিচারে শীর্ষ ১০টি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে প্রথমেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ। মানুষ আশা নিয়ে বাঁচে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মানুষকে নতুন করে অভিযোজনের পরীক্ষা দিতে হবে। তাতে উত্তীর্ণ হওয়ার পথ খুঁজে বের করতেই হবে।