লকডাউনে দিনাজপুরের দর্জিপাড়ায় বেহাল অবস্থা

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর : রোজার শুরুতেই শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ধাপের লকডাউন। এই লকডাউনে বন্ধ রয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন। বন্ধ রয়েছে ঈদকেন্দ্রিক সব ধরনের বেচাকেনাও। এরই প্রভাব পড়েছে দিনাজপুরের দর্জিপাড়ায়। চলমান লকডাউনে দর্জিপাড়ার কারিগরররা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েছেন। তারা বলছেন, এই মহামারি তাদের রুটিরুটি কেড়ে নিয়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত তারা।

শনিবার শহরের বিভিন্ন দর্জির দোকান ঘুরে দেখা গেছে, লকডাউনের কবলে পড়ে বন্ধ রয়েছে ছোট বড় সব ধরনের দর্জির দোকান। কর্মহীন ঘুরে বেড়াচ্ছেন কারিগররা। সামনে ঈদ। প্রতি বছর এই দিনগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করেন তারা। কাপড়ের অর্ডার নিতে হিমশিম খেতেন দর্জি দোকানের মালিকরা। রাতদিন দোকান খোলা থাকতো। সেলাই মেশিনের শব্দে এলাকা মুখরিত হয়ে থাকতো।

কিন্তু বর্তমান চিত্র ভিন্ন। লকডাউনে সবই বন্ধ। কিছু কিছু দর্জি দোকান খোলা দেখা গেলেও, হাতে নেই নতুন পোশাক তৈরির অর্ডার। কপালে আর গালে হাত দিয়ে বসে আছেন অনেক কারিগর। সামনে ঈদ, আর ঈদ মানেই আনন্দ। প্রত্যেকের পরিবার-পরিজন পথ চেয়ে থাকে, ঈদের নতুন কাপড় পাবে বলে। কিন্তু এবার নতুন কাপড় দেওয়ার চিন্তা নেই তাদের। তার চেয়ে বড় চিন্তা একমুঠো খাবার জোগাড় নিয়ে।

কথা হয় শহরের কালিতলা মহল্লার দর্জি দোকানের কারিগর ময়েজ উদ্দীনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রমজানের শুরুতে শুরু হয়েছে লকডাউন। প্রতি বছর এই সময় কাপড় বানানোর হিড়িক পড়ে। আর এবার লকডাউনে দোকান খুলতে পারছি না। আবার তেমন কোনো অর্ডারও নেই। বাড়িতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আজ বড় বিপদে আছি। এভাবে চললে না খেয়ে মরতে হবে।’

শহরের থানা মোড়ের দর্জি দোকানের কারিগর নজরুল ইসলাম বলেন, ‘লকডাউনে প্রশাসন দোকান খুলতে দেয় না। এরপরও সকাল বেলায় ঝাড়-ঝাটা দেওয়ার জন্য খুলেছি। কোনো অর্ডার নেই। আবার দোকানও খুলে রাখতে পারি না। সামনে ঈদ, কাজ না করলে সংসার চলাবো কী করে?’

ফুটপাতের কারিগর মকসেদ আলী বলেন, ‘পেট তো আর লকডাউন মানে না। সংসারের চাহিদা মেটাতে হবে। তাই প্রতিদিন সকালে লকডাউনেও আমি আমার ভ্রাম্যমাণ সেলাই মেশিন নিয়ে বাজারে বসি। ঈদ সামনে, তবে কোনো অর্ডার নেই। নিম্নবিত্ত কিছু মানুষ পুরাতন কাপড় সেলাই করে নিচ্ছে। সারাদিন মাত্র ৫০ থেকে ৬০ কামাই হচ্ছে। বাড়িতে বসে থেকে কী লাভ? দিনে ৫০/৬০ টাকা পাচ্ছি, এটাই অনেক।’

শহরের শাখারীপট্টিতে বাসায় বসে কাজ করেন বাসন্তি কর্মকার। তিনি বলেন, করোনা ও লকডাউনের কারনে এখন কেউ আর নতুন পোষাক তৈরি করছেন না। সকাল থেকে বসে আছি, একটা লুঙ্গিও কেউ সেলাই করতে আসে নাই। লকডাউন সব শেষ করলো। কাজ-কাম না করলে খাবো কী, সংসারে ছেলে-মেয়েদের মুখের দিকে তাকাতে পারছি না।’