পঞ্চগড়ে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, থানায় মামলা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি : জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পঞ্চগড়ের বোদায় বড় ভাইয়ের হাতে ছোটো ভাই খোরশেদুর রহমান চৌধুরী বাবলা (৫৫) খুন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে হত্যার অভিযোগ তুলে মামলাটি দায়ের করেন নিহত খোরশেদুর রহমান চৌধুরী বাবলার ছোট ছেলে জিএম লাতু চৌধুরী।

এদিকে একই দিন সকালে ছেলের মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বোদা থানা পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহত খোরশেদুর রহমান চৌধুরী বাবলা বোদা উপজেলার ভাসাইনগর এলাকার গোলাম রহমানের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে খোরশেদুর রহমান চৌধুরী বাবলার নিজ বাসার সামনে সৎ ভাই বোদা পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর সফিকুল ইসলাম কেব্লা ও রফিকুল রহমানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জমি নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে বিকেলে কাউন্সিলর সফিকুল বাসায় এসে ঘটনা শুনে বাবলার বাসা থেকে ডেকে ঝগড়ার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরুর এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির এক পর্যায়ে বাবলার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষণিক তাকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এসময় নিহত বাবলার ছোট ছেলে লাতু চৌধুরী হাসপাতাল চত্বরে বাবাকে হত্যা করেছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাবাকে বাঁচাতে পারলাম না বলে বিচার দাবি করতে থাকেন। এ ঘটনায় পরিবারের লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা তাকে নিভৃত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে লাতু চৌধুরী বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আসামি করে বোদা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আসামিরা হলেন, বোদা পৌরসভার মৃত গোলাম রহমানের ছেলে রফিকুল রহমান (৭২), রফিকুল রহমানের ছেলে তানভীর রহমান (৪৮), মৃত গোলাম রহমানের ছেলে শফিকুর রহমান কেব্লা (৫৬), রফিকুল রহমানের ছেলে রাজিব রহমান (৪০), রফিকুল রহমানের ছেলে রাজু (৩৮), রফিকুল রহমানের ছেলে সাজু (৩৮), ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী চাকদহ লাহিরী গ্রামের লুৎফর রহমানের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার (৪৮), তানভীরের স্ত্রী ফৌজিয়া (৪২), ভাসাইনগর গ্রামের রাজিব রহমান স্ত্রী লোমা (৩৩)।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, মামলার পর থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালমান রয়েছে।