হেফাজতের আরও ৩ নেতা গ্রেফতার

ঢাকা : হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় আরও তিন নেতাকে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা হলেন- সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সহসভাপতি মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও খেলাফত মজলিশের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন এবং খেলাফতের আরেক যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শারাফত হোসাইন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ নিয়ে সাম্প্রতিক অভিযানে হেফাজতের ১৫ নেতাকে গ্রেফতার করা হলো।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে ভোরে আতাউল্লাহ আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে পল্টনের বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় সাম্প্রতিক সহিংসতায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ও ২০১৩ সালের তাণ্ডবের ঘটনায় মামলা রয়েছে। তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হেফাজতের অপর দুই নেতাকে বিকেলে মোহাম্মদপুর ও মিরপুর থেকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম জানান, বিকেল ৫টার দিকে হেফাজত নেতা মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমীকে মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার করে ডিবির ওয়ারী বিভাগ। তিনি খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমির। একই সময়ে অপর এক অভিযানে ডিবি গুলশান বিভাগ মিরপুরের সেনপাড়া এলাকা থেকে হেফাজত নেতা মুফতি শারাফত হোসাইনকে গ্রেফতার করে।

ডিবি সূত্র জানায়, গ্রেফতার দু’জন ২০১৩ সালে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলায় অভিযুক্ত। সেইসঙ্গে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের সাম্প্রতিক নাশকতায় তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গ্রেফতারের পর তাদের মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডে চাওয়া হবে।

ডিবির দায়িত্বশীলরা বলছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আসার বিরোধিতার নামে গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় তাণ্ডব চালায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা। সেদিন চট্টগ্রামেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরপর বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচিতে ব্রাক্ষণবাড়ীয়াসহ বিভিন্ন স্থানে নাশকতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাদের ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।