ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভাঙা পাপ

মিরর ডেস্ক : রমজান মাসের রোজা রাখা মুসলমানদের অবশ্যপালনীয় বিধান। ইসলাম অনুমোদিত অপারগতা ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক কোনো মুসলমানের এই বিধান পরিত্যাগ করার অনুমতি নেই। ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ রোজা ভঙ্গ করলে ইসলামের দৃষ্টিতে সে বড় পাপী এবং পরকালে তার জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি। নবীজির প্রিয় সাহাবি আবু উমামা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখলাম, আমার কাছে দুই ব্যক্তি আগমন করল। তারা আমার বাহুদ্বয় ধরে আমাকে এক দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে গেল। তারপর আমাকে বলল, আপনি পাহাড়ের ওপর উঠুন। আমি বললাম, আমি তো উঠতে পারব না। তারা বলল, আমরা আপনাকে সহজ করে দেব। আমি ওপরে উঠলাম। যখন পাহাড়ের সমতলে পৌঁছলাম, হঠাৎ ভয়ংকর আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি বললাম, এসব কিসের আওয়াজ? তারা বলল, এটা জাহান্নামিদের আর্তনাদ। তারপর তারা আমাকে নিয়ে এগিয়ে চলল। হঠাৎ কিছু লোক দেখতে পেলাম, যাদের পায়ের মাংস পেশি দ্বারা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এবং তাদের মুখের দুই প্রান্ত ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং তা থেকে রক্ত ঝরছে। আমি বললাম, এরা কারা? তারা বলল, যারা ইফতারের সময় হওয়ার আগেই রোজা ভেঙে ফেলে।’ (ইবনে খুজাইমা, হাদিস : ১৯৮৬)

তবে যারা যথাযথভাবে রোজা পালন করে, তাদের জন্য রয়েছে অসংখ্য পুরস্কারের ঘোষণা।

জান্নাতে বিশেষ দরজায় প্রবেশ : আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, “জান্নাতে একটি দরজা আছে, যার নাম ‘রাইয়ান’। কিয়ামতের দিন এই দরজা দিয়ে কেবল রোজাদার ব্যক্তিরাই প্রবেশ করবে। অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা করা হবে, কোথায় সেই সৌভাগ্যবান রোজাদাররা? তখন তারা উঠে দাঁড়াবে। তারা ছাড়া কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। অতঃপর রোজাদাররা যখন প্রবেশ করবে, তখন তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (বুখারি, হাদিস : ১৮৯৬)

গুনাহ মাফ : শীত-গ্রীস্ম, গরম-ঠাণ্ডাসহ সব ধরনের কষ্ট সহ্য করে যারা রমজানের রোজা পালন করবে, পুরস্কার হিসেবে আল্লাহ তাদের পূর্ববর্তী সগিরা গুনাহ মাফ করে দেবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজান মাসের রোজা রাখবে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৮)

সিদ্দিকিন ও শহিদদের দলভুক্ত : আমর ইবনে মুররা আলজুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি একথার সাক্ষ্য দিই যে আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই এবং অবশ্যই আপনি আল্লাহর রাসুল, আর আমি যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি, জাকাত প্রদান করি, রমজান মাসের সিয়াম ও কিয়াম তথা তারাবিসহ অন্য নফল আদায় করি, তাহলে আমি কাদের দলভুক্ত হব? তিনি বলেন, সিদ্দিকিন ও শহিদদের দলভুক্ত হবে।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৩৪৩৮)

জাহান্নাম থেকে মুক্তি : যথাযথ রোজা পালন করার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা রোজাদার ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমাদের মহান রব ইরশাদ করেছেন, রোজা ঢালস্বরূপ। বান্দা এর দ্বারা নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবে। রোজা আমার জন্য, আর আমিই এর পুরস্কার দেব।’ (মুসনাদে আহমাদ,  হাদিস : ১৪৬৬৯)

মহান আল্লাহ সবাইকে যথাযথভাবে রোজা পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।