ভারতে খোলা বাজারে পাওয়া যাবে করোনা ভ্যাকসিন

মিরর ডেস্ক : পহেলা মে থেকে ১৮ বছরের ওপরের সবাইকে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই দিন থেকে দেশটির খোলা বাজারেও বিক্রি করা যাবে ভ্যাকসিন ডোজ। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

খবরে বলা হয়েছে, ভারতের কেন্দ্র সরকার টিকা উৎপাদককারী সংস্থাগুলোকে আরও বেশি ভায়াল উৎপাদনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক টিকা উৎপাদন সংস্থা থেকে আরও বেশি ভায়াল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণভাবে সরাসরি টিকা উৎপাদক সংস্থা থেকে ভ্যাকসিন কিনতে পারবে রাজ্যগুলো। এছাড়া সরকার নির্ধারিত দামে খোলাবাজারেও ছাড়তে পারবে সেই টিকা। মোট উৎপাদনের অর্ধেক ডোজ খোলা বাজার ও রাজ্য সরকারের কাছে বিক্রির জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলো তাদের মাসিক উৎপাদনের ৫০ শতাংশ সেন্ট্রাল ড্রাগস ল্যাবরেটরিতে পাঠাবে, যা পাবে কেন্দ্রীয় সরকার। আর অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ডোজ রাজ্য সরকার ও খোলা বাজারে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এসব নির্দেশনা টিকা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর পাঠানো হয়েছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির মোট সংক্রমণের প্রায় ৭৯ শতাংশ মহারাষ্ট্র, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থানে। এই তালিকায় পরের রাজ্যগুলো—তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, গুজরাট, কেরালা, মধ্য প্রদেশ, ছত্তিশগড়।

আইসিএমআর কর্মকর্তা মোহন ভার্গব বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে অক্সিজেনের চাহিদা তুঙ্গে। তবে এবার উপসর্গ খুব কম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা দেখা গিয়েছে। কিন্তু আগের বার শুকনো কাশি, হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা আর মাথাব্যাথার মতো উপসর্গ ছিল।

প্রথম পর্যায়ের করোনায় যখন বিশ্বের একাধিক দেশে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি, তখন ভারতের মতো ১৪১ কোটির দেশ কিছুটা হলেও সামলে নিয়েছিল কোভিড-১৯। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রাবল্য অনেক অনেক বেশি। এতটা আশা করেনি ভারতও। লকডাউন প্রত্যাহারের পর থেকে শিথিল হয়েছিল কোভিড বিধি। মাস্ক বিধি থেকে সামাজিক দূরত্ব সব নিয়ম উঠেছিল শিকেয়। এখন দৈনিক আক্রান্ত ২ লাখ ও মৃত্যু দেড় হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

ভারতীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড এখন আগের থেকে অনেক বেশি সংক্রামক। ব্রিটেন, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কোভিড স্ট্রেনের মিলিত দাপটে ধরাশায়ী হতে হচ্ছে ভারতকে। বর্তমানে ভারতের যা পরিস্থিতি, কোনও দেশের তেমন অবস্থা নয়। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে দেখা দিয়েছে বেডের হাহাকার, অক্সিজেন, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ রেমডেসেভিরের আকাল।