কৈ মাছের পোনা মজুদ ও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় করণীয়

মিরর ডেস্ক : কৈ মাছের পোনা মজুদ ও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় করণীয় যে কাজগুলো রয়েছে সেগুলো মৎস্য চাষিদের ভালোভাবে জেনে রাখা দরকার। লাভজনক হওয়ায় এখন অনেকেই কৈ মাছ চাষ করছেন। আজকের এ লেখায় আমরা জানবো কৈ মাছের পোনা মজুদ ও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় করণীয় সম্পর্কে-

কৈ মাছের পোনা মজুদ ও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় করণীয় :

পোনা মজুদ :

১। কই মাছ অতিরিক্ত শ্বসন অঙ্গ দিয়ে বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে পানির উপরে দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। বৃষ্টির সময় এরা কানকুয়া ব্যবহার করে দ্রুত চলতে পারে। সেজন্য পুকুর পাড় অবশ্যই নাইলনের ঘন জাল/টিন সীট দ্বারা ঘিরতে হবে।

২। ছোট ফাঁসযুক্ত জাল/টিন সীট দ্বারা পুকুরটি ঘেরার পর প্রতি শতাংশে ১-১.৫ ইঞ্চি মাপের ৩০০-৩২৫টি কই-এর (থাই/ভিয়েতনামি কই) পোনা মজুদ করতে হবে।

৩। একই সাথে ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে নিবিড় কৈ চাষের ক্ষেত্রে শতাংশ প্রতি ৩-৫ টি কাতলা মাছের পোনা ছাড়া যেতে পারে।

৪। কৈ মাছের সাথে শতকে ২০টি মাগুর অথবা ১০টি শিং মজুদ করা যেতে পারে।

৫। পরিবহন জনিত কারণে পোনার শরীরে ক্ষত হতে পারে তাই বালতিতে ১০ লি. পানি নিয়ে এর মধ্যে ২০০ গ্রাম খাবার লবণ অথবা ১ চা চামচ KMnO4 মিশাতে হবে। অতঃপর বালতির উপর একটি ঘন জাল রেখে তার মধ্যে ২০০-৩০০টি পোনা ছাড়তে হবে।

৬। যদি সম্ভব হয় পোনা ছাড়ার সময় থেকে ১০-১২ ঘন্টা পুকুরে হালকা পানির প্রবাহ রাখতে হবে।

খাদ্য ব্যবস্থাপনা :

১। পোনা মজুদের পরের দিন থেকে মাছকে তার দেহ ওজনের ১৬ ভাগ থেকে আরম্ভ করে দৈনিক খাবার দিয়ে যেতে হবে।

২। প্রতি ১৫ দিন অন্তর খাদ্য প্রয়োগের হার ১% করে কমাতে হবে।

৩। মাছের ওজন ৫০ গ্রামের উর্ধ্বে উঠলে খাদ্য প্রয়োগের পরিমাণ হবে তার দেহ ওজনের শতকরা ৫ ভাগ।