শেয়ারবাজারে লেনদেন চলবে, বন্ধ থাকবে প্রি-ওপেনিং

অর্থনীতি রিপোর্ট : লকডাউনের মধ্যে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু থাকবে। তবে বন্ধ থাকবে প্রি-ওপেনিং সুবিধা। আগামীকাল (রবিবার) থেকে এটি কার্যকর হবে।

শনিবার (৩ এপ্রিল) পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।

পর্ষদ সভা শেষে রাতে ডিএসইর জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে করোনা মহামারি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার জনস্বার্থে সারা দেশে লকডাউন ঘোষনা করতে যাচ্ছে৷ লকডাউন চলাকালীন সময়ে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে পুঁজিবাজারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লেনদেন চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন৷

এতে আরও বলা হয়, ‌বিএসইসির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত ও ধন্যবাদ জানিয়েছে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ৷ আজ (৩ এপ্রিল) ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের জরুরি এক সভায় এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত ও ধন্যবাদ জানানো হয়৷ একই সভায় চলমান প্রি-ওপেনিং সেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়৷ যা আগামীকাল ৪ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে৷

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সকল ট্রেকহোল্ডার ও বিনিয়োগকারীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনলাইন ডিজিটাল প্লাটফর্মে লেনদেন করার অনুরোধ জানিয়েছে৷

এর আগে শনিবার সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় আগামী সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার।

এই লকডাউন সম্পর্কে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দুপুরে জানান, লকডাউনের মধ্যে জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব ধরনের সরকারি বেসরকারি-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে শিল্পকারখানা।

এর প্রেক্ষিতে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, কী ধরনের লকডাউন হবে এখনই তা স্পষ্ট নয়। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তবে আমরা আপাতত আগের সিদ্ধান্তেই আছি। যদি ব্যাংক খোলা থাকে, তাহলে লকডাউনের মধ্যেও শেয়ারবাজারে লেনদেন চলবে।

তিনি বলেন, এখন আমাদের সবকিছুই অটোমেটেড। লেনদেন করার জন্য বিনিয়োগকারীদের ব্রোকারেজ হাউজে যাওয়ার দরকার নেই। সুতরাং বিনিয়োগকারীদের বলব, কোনো ধরনের গুজবে কান দিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য।

এরপর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) থেকে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারিকালসহ যেকোনো সময় ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে পুঁজিবাজারের সকল লেনলেন চালু থাকবে৷ এ ব্যাপারে বিনিয়োগকারীদের কোনো রকম গুজবে কান না দেয়ার অনুরোধ জানায় দুই স্টক এক্সচেঞ্জ।

এর আগে গত বছর করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে ২০২০ সালের ২৬ মার্চ থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়। সরকার ছুটি বাড়ালে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শেয়ারবাজারও বন্ধ রাখার সময় বাড়ানো হয়। এতে ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকে শেয়ারবাজার।

তবে বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর গত বছরের ৩১ মে থেকে আবার শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু হয়।