দিনাজপুরে লোহার খনির কুপ খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর : খনির জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরে এবার একটি লোহার খনির সন্ধানে নেমেছে বাংলাদেশ ভু-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর খনির সম্ভাব্যতা যাচাই ও জরিপের জন্য শুক্রবার ((২ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে কুপ খনন (ড্রিলিং) কাজ শুরু করেছে জিএসবি’র একটি টীম। শুক্রবার বিকেলে চিরিরবন্দর উপজেলার ১০নং পুনট্রি ইউনিয়নের কেশবপুর মৌজায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এই কুপ খননকাজের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ভূ-তাত্বিক জরিপ অধিদপ্তর-জিএসবি‘র মহাপরিচালক ড. মোঃ শের আলী।

এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম তারিক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরতিজা হাসান, জিএসবির ডিরেক্টর মো. মইনউদ্দিন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপ পরিচালক (ড্রিলিং প্রকৌশলী) মোঃ মাসুদ রানা, সহকারী পরিচালক (ড্রিলিং প্রকৌশলী) মোঃ রোকনুজ্জামান, চিরিরবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) মো. রইচ উদ্দিন, পুনট্রি ইউপি চেয়ারম্যান নুর এ কামাল প্রমূখ।

জিএসবি সুত্রে জানা গেছে, খনির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কূপ খননের কাজে একটি অনুসন্ধানী দল কাজ করছে। প্রথম তিন মাস কুপ খনন করে চালানো হবে খনিজ সম্পদের অনুসন্ধানের কাজ। নতুন খনিতে লোহার কাঁচামাল আকরিকের পুরুত্ব অনেক বেশি থাকায় লোহার সঙ্গে তামাসহ অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ পাওয়ার আশা করছেন ভূ-তাত্বিক জরিপ অধিদপ্তর-জিএসবি। বর্তমানে এলাকাটি সংরক্ষিত এলাকা হিসাবে ঘোষনা করে খনিজ সম্পদের অনুসন্ধানের কাজ চালাবে জিএসবি। ২০০১ সালে এক জরিপে আকরিক লোহার অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর এখানে লোহার খনির সন্ধানে এই খননকাজ শুরু করেছে জিএসবি।

জিএসবি‘র মহাপরিচালক ড. মোঃ শের আলী বলেন, পাশের কিছু এলাকায় আকরিক লোহার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সেই তথ্য বিবেচনা করে এখানে আকরিক লোহার রেশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে এখানে জরিপ করার জন্য খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। এদিকে এলাকায় লোহার খনি আবিস্কার হতে যাচ্ছে এমন খবরে আনন্দে উদ্বেলিত ওই এলাকার মানুষ। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুর-এ কামাল জানান, এখানে খনি নিশ্চিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নের চিত্র পাল্টে যাবে।
উল্লেখ্য, দিনাজপুর জেলায় ইতিমধ্যে বড়পুকুরিয়ায় কয়লা খনি এবং মধ্যপাড়ায় পাথর খনির উত্তোলন কাজ অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যেই লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে এই দুটি খনি। এছাড়াও ফুলবাড়ী ও নবাবগঞ্জের দিঘীপাড়ায় আরও দুটি কয়লা খনি এবং ২০১৯ সালে হাকিমপুরের ইসবপুর ও মুর্শিদপুরে একটি উন্নতমানের আকরিক লোহার খনি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ ভু-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর।