সৌম্যর বিশ্বাস নিউজিল্যান্ডকে হারানো সম্ভব , তবে …

মিরর স্পোর্টস : হোক তা টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে আগে কখনো কিউইদের হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে এবার নিউজিল্যান্ড যাওয়ার আগে হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো আর ওয়ানডে ক্যাপ্টেন তামিম ইকবাল আশার বাণী শুনিয়ে গেছেন।

কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর কথা ছিল অন্যবারের চেয়ে এবার ভাল দল নিয়ে নিউজিল্যান্ড যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেরা ফল নিয়েই ফিরবে। আর ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের বিশ্বাস ছিল যে, অন্তত একটি ম্যাচ জিতবে টাইগাররা।

কিন্তু হায়! সে আশায় গুড়েবালি। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এবারও জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে তুলোধুনো আর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেও পরাজয় সঙ্গী। জয় অধরা। এখন আছে কেবল আর একটি ম্যাচ বাকি, সেই বহুল কাঙ্খিত জয়ের দেখা কী মিলবে?

সেটা জানা যাবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। ১ এপ্রিল অকল্যান্ডে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ তাই এবারের মত টাইগারদের লক্ষ্য পূরণের শেষ সুযোগ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কী পারবে ইতিহাস বদলাতে?

অবশেষে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কী উড়বে টাইগারদের জয়ের কেতন? সমালোচকরা মানতে নারাজ। তবে ভক্ত-সমর্থকরা আশার প্রহর গুনছেন, শেষ ম্যাচে একটা কিছু করবে টাইগাররা।

আগের ম্যাচে প্রায় ২০০ স্ট্রাইকরেটে (২৭ বলে ৫১) হাফ সেঞ্চুরি হাঁকানো সৌম্য সরকারের কথা শুনে মনে হচ্ছে, টিম বাংলাদেশের মধ্যেও বিশ্বাস আছে যে, ‘আমরা কিউইদেরকে তাদের মাটিতেই হারাতে পারি। এজন্য দরকার ব্যাটিং, বোলিং আর ফিল্ডিং- তিন বিভাগে একসাথে ক্লিক করা।’

সৌম্যও মানছেন, একটি নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্টে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু সময় ভাল খেললেই চলবে না। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে একসঙ্গে ভাল খেলতে হবে এবং অবশ্যই সময়ের দাবি মেটাতে হবে। সৌম্য সরকার বিশ্বাস করেন নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও কিউইদের হারানো সম্ভব।

তার আশাবাদী উচ্চারণ, ‘এখানে জেতা সম্ভব।’ কিন্তু পরের বক্তব্যেই আছে ভিন্নতা, ‘আমরা যেভাবে খেলছি, সেভাবে নয়। একদিন বোলাররা ভালো করছি তো একদিন ব্যাটসম্যানরা। তিন বিভাগেই যদি ভালো করতে পারতাম তাহলে সহজ হত। জয় সম্ভব হত।’

শেষ ম্যাচের লক্ষ্য জানাতে গিয়ে সৌম্য বলেন, ‘আর একটা ম্যাচই বাকি আছে। যদি ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই ভালো করতে পারি তাহলে জেতা সম্ভব। গত ম্যাচে ফিল্ডিং অনেক ভালো ছিল। ছোট ছোট দু-একটা ভুল হচ্ছে। এই ভুলগুলো না করি যদি, নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে আমার মনে হয় কালকের ম্যাচ জিততে পারব।’

আগের ম্যাচে ভাল খেলেছেন। কিছু নজরকাড়া ও সাহসী শট খেলে প্রায় ২০০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করে হাফ সেঞ্চুরিও উপহার দিয়েছেন। মূলতঃ সৌম্যর এমন ঝড়ো ইনিংসেই জয়ের পথ খুঁজে পেয়েছিল বাংলাদেশ। যদিও শেষ পর্যন্ত হারই থেকেছে সঙ্গী।

নেপিয়ারের ম্যাচে ডিএল মেথডের টার্গেট নিয়ে যে ভজকট অবস্থা হলো, তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সৌম্য বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই পজিটিভ ইনটেন্ট ছিল। প্রথমে সবার মধ্যে চিন্তা ছিল যে, টার্গেট কত? যখন দুই ওপেনার ব্যাটিংয়ে গেছে টার্গেট ঠিক ছিল না। যখন মাঠের ভেতর গেলাম, আম্পায়ারের সাথে কথা বললাম, উনি বললেন এ রকম (১৪৮) একটা লক্ষ্য। এভাবেই শুরু করলাম। (শেষে ১৭০ হয়ে গেলো)।’

নিজের ইনিংস সম্পর্কে সৌম্যর মূল্যায়ন, ‘প্রথম বলেই চার পেয়ে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল। আগের ম্যাচগুলো এত ভালো হয়নি। চেষ্টা ছিল এই ম্যাচে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার। উইকেটও ভালো ছিল। দিনশেষে ম্যাচ জিতলে আরও ভালো লাগত।’