নাগপুর হাসপাতালে এক বেডে দুই করোনা রোগী, ছবি ভাইরাল

মিরর ডেস্ক : ভারতে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের একটি হাসপাতালের ভেতরের ছবি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি বেডেই কোনও রকমে গাদাগাদি অবস্থায় শুয়ে রয়েছেন দুই করোনা আক্রান্ত। ছবিগুলোকে কেন্দ্র করে তোলপাড় চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ভারতজুড়ে নতুন করে বেড়েছে করোনা সংক্রমণ। এরইমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ১৩ লাখ ৯৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সক্রমণ বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে হাসপাতালের শয্যা সংকট। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আক্রান্তের প্রায় ৬০ শতাংশই মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। সম্প্রতি রাজ্যটির হাসপাতালের করুণ দশার ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, নাগপুরের একটি সরকারি হাসপাতালে এক বেডে দু’‌জন করোনা রোগীকে রাখা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে বেডের অপ্রতুলতার জন্যই এই দুর্দশা।

নাগপুরের সরকারি হাসপাতালের সুপার অবিনাশ গাওয়ান্ডে বলেছেন, ‘‌বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ প্রচুর। তা এড়াতে কোভিড রোগীরা সরকারি হাসপাতালে আসছেন। এখানে আবার বেড কম। তাই আমরা নিরুপায়।’‌ তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘‌এই মুহূর্তে একটি বেডে একজন কোভিড রোগী রয়েছেন।’‌

বিজেপি নেতা চন্দ্রকান্ত বাওয়ানকুলে এ পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন,  ‘‌ওই সরকারি হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে করোনা রোগীর সঙ্গে অন্য রোগীদেরও রাখা হচ্ছে। আসল সত্যিটা হল নাগপুরে হাসপাতালে কোভিড রোগীদের বেড নেই। আর সরকার কুম্ভকর্নের মতো ঘুমাচ্ছে।’‌

বাওয়ানকুলে আরও অভিযোগ করেন, ‘‌মহারাষ্ট্র সরকারের মন্ত্রিসভার ৩ মন্ত্রী নাগপুরের। তাঁরা সব জেনেও চুপ আছেন। অন্য কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।’‌

এদিকে, কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় যাতে কোনও গাফিলতি না থাকে, সেজন্য বেসরকারি হাসপাতালেও করোনা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করেছে মুম্বাইয়ের পৌর কর্তৃপক্ষ। শহরটির অন্তত ৬৯ টি নার্সিংহোমে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাখা হচ্ছে ২২৬৯ আইসোলেশন বেড, তার মধ্যে ৩৬০ টি আইসিইউ।

মুম্বাইয়ে গড়ে প্রতিদিন ছয় হাজার থেকে সাত হাজার জন করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (বিএমসি) কমিশনার ইকবাল সিং চাহাল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনও বেসরকারি হাসপাতাল সরাসরি কোভিড রোগীকে ভর্তি করাতে পারবেন না। যারা সরাসরি রোগী ভর্তি করবেন, সেই সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালকে জরিমানা করা হবে। মৃদু উপসর্গদের হোম আইসোলেশনে রেখেই যাতে চিকিৎসা করা যায়, সেকারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চাহাল বলেছেন, ‘‌ল্যাব থেকে পজিটিভ রিপোর্ট নিয়ে হাসপাতালে গেলেই হবে না। আগে আমাদের কাছে আসতে হবে। ঠিক তার পরের দিন রোগীর বাড়িতে করপোরেশনের লোকরা যাবেন। পরিস্থিতি বুঝে বেসরকারি হাসপাতালে বেডের ব্যবস্থা করবেন। গত বছর জুনেও এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’‌

মুম্বাইয়ে করোনা রোগীদের জন্য বেড বাড়ানোর চিন্তাও করছে বিএমসি।

সূত্র: আজকাল