অন্যের সাজা ভোগকারী মিনুর ঘটনা হাইকোর্টের নজরে

ঢাকা : হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমী নামের এক নারীর পরিবর্তে সাজা ভোগকারী মিনুর নথি হাইকোর্টের নজরে আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
বিষয়টি নজরে আনা হলে বুধবার (৩১ মার্চ) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে গত ২৪ মার্চ বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে চট্টগ্রামের আদালত থেকে ১১ পৃষ্ঠার নথি হাইকোর্টে আসে। গত ২৩ মার্চ চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমী নামে এক নারীর পরিবর্তে সাজা ভোগ করার অভিযোগ আনা মিনুর নথি হাইকোর্টে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভুঁঞার আদালত এ আদেশ দেন।
কারাগারের একটি বালাম বই দেখতে গিয়ে মিনুর সাজা খাটার বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে দেখা যায়, একজনের পরিবর্তে যাবজ্জীবন সাজা খাটছেন আরেক নারী। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে এ মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাইকোর্টে পাঠানোর আদেশ দেন চট্টগ্রামের আদালত।

কোনও কিছুর মিল না থাকায় একজনের স্থলে আরেকজন জেল খাটার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউট (পিপি) নোমান চৌধুরী বলেন, আদালতে সংরক্ষিত ছবি সম্বলিত নথিপত্র দেখে কুলসুম আক্তার কুলসুমী আর মিনু এক নয় বলে নিশ্চিত হয়েছেন। যেহেতু ইতোমধ্যে এ মামলার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছে তাই মামলার উপ-নথি দ্রুত সময়ের হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

হত্যা মামলায় আদালত যাবজ্জীবনসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেন কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে। কিন্তু আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেল খাটছেন মিনু নামে এক নারী। নামের মিল না থাকার পরও কুলসুম আক্তার কুলসুমীর বদলে মিনু ২ বছর ৯ মাসের অধিক সময় ধরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।