নকশায় জটিলতা, পদ্মা সেতুর রেললাইন সময়মতো হওয়া নিয়ে শঙ্কা

মিরর ডেস্ক : পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের অগ্রগিত মাত্র ৩৯ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের বাকি কাজ ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করতে হবে। এরইমধ্যে নকশাসহ নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণইউটিলিটি সার্ভিস লাইন স্থানান্তর ও ঋচুক্তিতে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। প্রকল্প সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ১৬৯ কিলোমিটার রেললাইনের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যশোরের রেল সংযোগ তৈরি করতে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ২০১৬ সালের মার্চে। প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এরই মধ্যে মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই অংশ থেকে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে সড়কপথ চালুর দিন হতেই ভাঙ্গা-পাচুরিয়া রাজবাড়ী সেকশনের মাধ্যমে বিদ্যমান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। ঢাকা  যশোরের সঙ্গে রেলওয়ে সংযোগ স্থাপনের নির্মাণকাজ একইসঙ্গে শুরু হয়ে ২০২৩ সালে সমাপ্ত হবে। প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড (সিআরইসি)।

প্রকল্প সূত্র জানয়েছে২০১৬ সালের ৮ আগস্ট ৩১৩৮.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মাণকাজের চুক্তিপত্র স্বাক্ষর হয়। ২০১৮ সালের ২৭ এপ্রিল এক্সিম ব্যাংক অব চায়নার সঙ্গে ২৬৬৭.৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি হয়। প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট (সিএসসি) সেল অব ক্রপস অব ইঞ্জিনিয়ার্স এবং সহযোগিতায় রয়েছে বুয়েটের বিআরটিসি।

প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের জুলাইতে। মূলতচীনা এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি সম্পন্ন হতে দেরি হওয়ার কারণেই কাজ শুরু করতে দেরি হয় বলে জানিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্পে ১৬৯ কিলোমিটার মেইন লাইন, ৪৩ দশমিক ২২ কিলোমিটার লুপ ও সাইডিং এবং ৩ কিলোমিটার ডাবল লাইনসহ মোট ২১৫ দশমিক ২২ কিলোমিটার রেলওয়ে ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে। ২৩ দশমিক ৩৭৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট১ দশমিক ৯৮ কিলোমিটার র‌্যাম্পস৬৬টি মেজর ব্রিজ, ২৪৪টি মাইনর ব্রিজ, কালভার্ট ও আন্ডারপাস১টি হাইওয়ে ওভারপাস এবং ২৯টি লেভেল ক্রসিং নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ১৪টি নতুন স্টেশন নির্মাণ৬টি বিদ্যমান স্টেশনের উন্নয়ন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ২০টি স্টেশনে টেলিযোগাযোগসহ সিবিআই সিস্টেম সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ এবং ২ হাজার ৪২৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। অন্যান্য কাজ এগিয়ে থাকলেও এখন ইউটিলিটি সার্ভিস স্থানান্তরের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

প্রকল্প সূত্র আরও জানিয়েছেইউটিলিটি শিফটিংয়ের জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে এ পর্যন্ত ১৮৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের কাজ এখনও চলছে। এরইমধ্যে ৯টি জেলায় ১৭৩১ দশমিক ৪৫৭২ একর ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে। অনেক সংস্থা এখন তাদের প্রাক্কলন দাখিল করতে পারেনি। যে কারণে প্রকল্পের এই অংশের কাজ ধীরগতিতে চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেআরও অনেক সংস্থার প্রাক্কলন শিগগিরই দাখিল করা হবে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পের মোট ভৌত নির্মাণকাজের অগ্রগতি হয়েছে ৩৯ দশমিক ০৩ শতাংশ।