৪৪ বছর ধরে উল্টে মাথা নিয়ে পৃথিবী দেখছেন তিনি

মিরর ডেস্ক : উল্টো মাথা নিয়ে জন্ম নেয় এক শিশু। চিকিৎসকরা জন্মের পর বলে ছিলেন বেঁচে থাকবেন মাত্র ২৪ ঘন্টা। কিন্তু চিকিৎসকদের ভবিষ্যৎবাণীকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছেন ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বের রাজ্য বাহিয়ার বাসিন্দা ক্লোদিও ভিইরা ডি অলিভিয়েরা। দিব্যি চলাফেরা করছেন তিনি। এখন তার বয়স ৪৪ বছর।

বিরল আর্থ্রোগ্রিপোসিস মাল্টিপ্লেক্স কনজেনাইটা নামক রোগে আক্রান্ত তিনি। এরফলে জন্ম থেকেই পিছন দিকে মাথা নিয়ে অর্থাৎ উল্টো দিকে মুখ নিয়েই পৃথিবীর আলো দেখেতে হচ্ছে তাকে। ক্লোদিও ভিইরা ডি অলিভিয়েরা জন্ম থেকেই এ বিরল রোগে আক্রান্ত। উল্টো মাথা নিয়ে জন্মানোর পরই চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তাঁর বেঁচে থাকার আশা মাত্র চব্বিশ ঘন্টা। কিন্তু ডাক্তারদের সেই আশঙ্কাকে মিথ্যা প্রমাণ করে পিছনের দিকে মাথা নিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের ৪৪ টা বছর। আর এভাবেই আরো অনেক বসন্ত দেখে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ক্লোদিও ভিইরা ডি অলিভিয়েরা।

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, জন্ম থেকেই বিরল এই রোগের শিকার তিনি। যারফলে তাঁর মাথা পিছন দিকে ঘোরানো এবং পা গুলি বুকের সঙ্গে আটকে রয়েছে। যারফলে গোটা দুনিয়াকেই  উল্টো ভাবেই দেখেন তিনি। তবে এর জন্য তাঁর কোনও শারীরিক সমস্যা হয় না। এমনকি খাবার খেতে বা নিশ্বাস নিতেও কোনো রকম সমস্যায় পড়তে হয় না তাঁকে।

এই বিষয়ে ব্রাজিলের নিউজ সাইট ‘জি1’ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লোদিও বলেছেন, “জন্ম থেকেই এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও এর জন্য তাঁর কোনো সমস্যা হয় না। ঘরে বসেই মায়ের কাছে যাবতীয় পড়াশোনাও শিখে ফেলেছেন তিনি। এমনকি প্রতিবন্ধী মানুষদের অনুপ্রেরণা দিতে বা তাঁদের নানারকম কাজে উদ্বুদ্ধ করতে তিনি একটি আত্মজীবনীও লিখে ফেলেছেন। ২০০০ সাল থেকে তিনি একটি ডিভিডি লঞ্চ করেছেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে তাঁকে বক্তৃতা দিতেও শোনা যায়।”

সূত্র: কলকাতা ২৪।