শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনে প্রশাসনের সহযোগিতা চায় হেফাজত

মিরর ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতাকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে রবিবার (২৮ মার্চ) সারা দেশে সকাল–সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে হেফাজতে ইসলাম।

হরতালে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও মারামারি যাতে না হয়, সে জন্য সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা। এছাড়া নেতাকর্মীদের প্রতিও শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদরাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জেহাদি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘হরতাল এ দেশে সবাই করে। আমরা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই হরতাল ডাকিনি। ইমানি তাগিদে আমরা হরতাল ডেকেছি। আমাদের মুসলমান ভাইয়েরা শাহাদাত বরণ করেছেন, এ জন্য হরতাল ডেকেছি। প্রশাসন ও সরকারকে আমাদের প্রতিপক্ষ মনে না করে শান্তিপূর্ণ হরতাল করতে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। দেশবাসীর কাছে অনুরোধ, শান্তিপূর্ণভাবে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করুন। হরতালে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, মারামারি যাতে না হয়।’

সংঘাতমূলক কোনো কর্মসূচি তাদের ছিল না দাবি করে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘তারা চাইলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে প্রতিহত করতে বিমানবন্দর ঘেরাও করতে পারতেন। কিন্তু সেটা তারা করেননি। এরপরও ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও হেলমেটবাহিনী তাদের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা করেছে, যা দুঃখজনক।’

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হক বলেন, ‘নতুন এক সংস্কৃতি দেখছি বাংলাদেশে। যখনই কোনো পক্ষ দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজপথে আসে, তখন তাদের প্রতিহত করার জন্য হেলমেটবাহিনী নামে নতুন এক বাহিনী তৈরি করা হয়েছে। এই হেলমেটবাহিনী বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নিরীহ–নিরস্ত্র জনগণের বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধে মাঠে নামছে। গতকালও বায়তুল মোকাররমে প্রকাশ্যে পুলিশের সামনে সরকারদলীয় ছাত্র-যুব সংগঠনের সন্ত্রাসীরা পিস্তল, রামদা, কিরিচ নিয়ে রাজপথে মহড়া দিয়েছে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেই।’

মামুনুল হক বলেন, ‘আগামীকাল (রবিববার) ক্ষমতাসীন দলের (আওয়ামী লীগ) কোনো কর্মসূচি নেই। সে কারণে তাদের হরতালের দিন ক্ষমতাসীন দলের কাউকে তারা রাজপথে দেখতে চান না, কোনো হেলমেটবাহিনীকেও দেখতে চান না।’

হেফাজতে ইসলামের এই কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, ‘তারা যেন আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার কোনো ধরনের অপচেষ্টা না চালায়। আমরা আজও লক্ষ করেছি, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মহড়া দিচ্ছে। আগামীকালও যদি তারা রাস্তায় অবস্থান গ্রহণ করে, সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। যদি এ ধরনের কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে, এর জন্য সরকারকে দায় বহন গ্রহণ করতে হবে।’

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, ‘তারা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করতে চান। সে লক্ষ্যে তাদের যেন সহযোগিতা করা হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- ওষুধের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদপত্রের গাড়ি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।

এদিকে হেফাজত ইসলামের এই হরতাল কর্মসূচিকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। হেফাজতে ইসলাম তাদের কর্মসূচি যেকোনো মূল্যে সফল করার ঘোষণা দিয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।