ঢাবিতে মোদির কুশপুতুল পোড়ালো ছাত্র অধিকার পরিষদ

ঢাবি প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন এবং ছাত্রজোটের মিছিলে হামলার প্রতিবাদে কালো পতাকা মিছিল ও কুশপুতুল দাহ করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

বুধবার (২৪ মার্চ) বিকেলে এ কালো পতাকা মিছিল রাজু ভাস্কর্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ভাস্কর্যের পাদদেশে পূর্ব থেকেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থান নেয়ায় সমাবেশস্থল পরিবর্তন করে শহীদ মিনারে নেয় ছাত্র অধিকার পরিষদ। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে টিএসসির ডাস চত্বরে এসে কুশপুতুল দাহ করে তারা। এসময় তাদের দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মিছিলে তারা, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ ‘ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ ‘গো ব্যাক গো ব্যাক, গো ব্যাক ইন্ডিয়া’, ‘সাম্প্রদায়িক মোদি, গো ব্যাক গো ব্যাক’, ‘স্বৈরাচারের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘আমার বোন আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

কুশপুতুল দাহ কর্মসূচি শেষে ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন বলেন, ‘মোদির মতো একজন সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি, যার হাতে লেগে আছে মুসলমানদের রক্ত, তাকে আমরা ওয়েলকাম জানাতে পারি না। মোদিকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা মানে অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনায় আঘাত হানা, আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা। মোদির মতো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজকে এনে আমাদের সম্প্রীতি বিনষ্ট করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা তাকে মেনে নিতাম, যদি তিনি যদি সীমান্ত হত্যা করার জন্য এ দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতেন, তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন করতেন, এ দেশের রাজনীতিতে তিনি যদি নাক না গলাতেন।’

ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, ‘অবৈধ আওয়ামী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে তারা ফ্যাসিস্ট নরেন্দ্র মোদিকে একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দাওয়াত করেছে! আমরা বলতে চাই, এই অনুষ্ঠান যদি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান হয় তাহলে এই অনুষ্ঠানে জনগণের অংশগ্রহণ কোথায়? আজকে সারাদেশে দেখেন এই আওয়ামী লীগের লোকজন ছাড়া জনগণের কোনো অংশগ্রহণ নেই। এ থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় এটা বাংলাদেশের কোনো সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান নয়, এটা আওয়ামী লীগের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন করে যে আপনারা কেন শুধু মোদিকে নিয়েই বিরোধিতা করছেন? আজকে এই অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার আরো ৬-৭টি দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতিরা আসছেন, তাদের নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। কারণ, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে অন্য কোনো দেশ এখনও নাক গলায়নি। শুধুমাত্র ভারত নামক কসাইয়ের দেশটি শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেকটি বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে যাচ্ছে। তাই আমরা বলতে চাই, ভারতের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। ভারতের জনগণের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নাই। আমাদের অবস্থা পরিষ্কার। আমরা বলেছি নরেন্দ্র মোদিকে এদেশের ১৮ কোটি জনগণ কখনোই স্বাগত জানাবে না! যদি এই অবৈধ আওয়ামী সরকার নরেন্দ্র মোদিকে আনতে চায় তাহলে জনগণের রক্তের ওপরে নিয়ে আসতে হবে। আমরা রক্ত দিতে আবারও প্রস্তুত রয়েছি।’

ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘ভারত আমাদের বন্ধু, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছে। তার মানে এই নয় যে, তাদের বন্ধুত্বের ঋণ হিসেবে আমাদের স্বাধীনতা বিসর্জন দেব। মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে দুই হাজার মুসলমানকে হত্যা করেছে। মোদিকে যদি বাংলাদেশে আনা হয় তাহলে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বেইমানি করা হবে, ৩০ লাখ শহীদের সঙ্গে বেইমানি করা হবে। যখনই ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি তখনই তারা ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিয়েছে। আপনাদের আহ্বান জানাই এ দেশের ছাত্রসমাজ, এ দেশের মানুষ যেভাবে সাম্প্রদায়িক মোদির বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করছে, আপনারাও এতে অংশগ্রহণ করুন।’

ঢাবি শাখার সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষ মোদিকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাচ্ছে না, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ মোদিকে স্বাগত জানাচ্ছে। যার একমাত্র কারণ গদি রক্ষা করা। এখন পর্যন্ত বাণিজ্যের যে অসমতা সেটা বন্ধ হয়নি, নির্বাচনসহ প্রত্যেকটা সেক্টরে ভারতের হস্তক্ষেপ বন্ধ হয়নি, সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয়নি। এতকিছুর পরও আমরা কীভাবে সন্ত্রাসী মোদিকে বাংলাদেশের মাটিতে স্বাগত জানাবো। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, যদি মোদিকে বাংলাদেশে আনা হয় গদিসহ ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হবে।’

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির যুগ্ম-আহ্বায়ক মশিউর রহমান, মাহফুজুর রহমান খান, সোহরাব হোসেন প্রমুখ।