কুড়িগ্রামে আলু নিয়ে বিপাকে কৃষকেরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামে বিভিন্ন হিমাগারে জায়গা সংকটের কারণে আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। এ বছর আলুর বাম্পার ফলনে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা খুশি হলেও আলু রাখা নিয়ে তাদের এখন অনেক দুশ্চিন্তা। অতিরিক্ত আলুর চাপে হিমাগারগুলোর সামনে এখন সারিবদ্ধভাবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে আলু পরিবহণকারী যানবাহন। কেউ ট্রলি, ঘোড়ার গাড়ি, ভ্যান ও মহিষের গাড়ি নিয়ে সারিবদ্ধভাবে প্রখর রোদে রাস্তা আটকে দাড়িয়ে থাকছে । ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় দাড়িয়ে থাকার কারণে হিমাগারের সামনে দেখা দিয়েছে যানজট।

এদিকে হিমাগার মালিক সংশ্লিষ্টরা জানায়, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে আলুর পরিমান বেশি হওয়ায় এবার সমস্যা হচ্ছে। ধারণ ক্ষমতার বাইরে হিমাগারের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তারপরেও হিমাগারের সামনে আলু সংরক্ষণে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ভিড় করছেন ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে। বর্তমানে আলুর বাজারে দাম কম হওয়ায় সংরক্ষণে ব্যস্ত কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ক্রেতার অভাব ও বিদেশে রপ্তানি কমে যাওয়ায় আলু উৎপাদন করে এখন মাথায় হাত পড়েছে এ অঞ্চলের বহু কৃষকের।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, হিমাগারগুলোর প্রধান ফটক বন্ধ। হিমাগারের আশে পাশে রাস্তায় ও মাঠে শত শত বস্তা আলু নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

আজগর আলী নামে এক ঠেলাগাড়ি চালক জানান, ৩০বস্তা আলু নিয়ে আসছিলাম। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গেট বন্ধ থাকায় কোল্ড স্টোরে ঢুকাতে পারিনি। একই অবস্থা রামরতন এলাকার হক হিমাগারের সামনে বসে থাকা রাজারহাটের ঘড়িয়াল ডাঙার কৃষক রিয়াজুল ইসলামের। তিনি জানান, ৭০ বস্তা আলু নিয়ে দুদিন ধরে অপেক্ষা করেও হিমাগার মালিক কোন সাড়া দিচ্ছেন না।

হক হিমাগারের ম্যানেজার নুর ইসলাম জানান, আমাদের হিমাগারে ১ লাখ ৭০ হাজার বস্তা ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন।আমাদের ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে আর আলু নেয়ার কোন সুযোগ নেই। অন্যদিকে,বাবর কোল্ড স্টোরেজ ও সেকেন্দার কোল্ড স্টোরেজেও একই তথ্য জানান হিমাগার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, কুড়িগ্রাম জেলায় এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।এখনও অনেক আলু জমি থেকে কৃষকরা তুলেননি।এত অতিরিক্ত আলু কৃষকদের বাড়িতে সংরক্ষণ করা ছাড়া উপায় নেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার ৪টি হিমাগারে ৬ লাখ ২০ হাজার বস্তা আলু রাখার ক্ষমতা রয়েছে।এর বাইরে রাখার সুগোগ নেই। আলুর দাম বাজারে কম হওয়ায় চিন্তিত কৃষক।

রাজারহাট উপজেলার দেবালয় গ্রামের কৃষক আজম আউয়াল জানান, যেভাবে এবার আলুর আবাদ পেয়েছি সে তুলনায় দাম অনেক কম। প্রতি কেজি আলুর দাম ৬-৭ টাকায় নেমে গেছে। তাও ক্রেতা মিলছেনা। হিমাগারেও জায়গা মিলছেনা।তাহলে আমরা এত আলু নিয়ে কী করব।লোকসান গুনতে হবে এবার।

আলু রপ্তানি কারক প্রতিষ্ঠান এগ্রি কনসার্ণ এর ডিজিএম সাহানুজ্জামান জানান, বর্তমানে আমরা দেশের আলু শ্রীলংকা ও সিঙ্গাপুরে সীমিত পরিমাণে রপ্তানি করছি। তবে ডোনাটা, সানসাইন ও কুম্বিকার মতো কিছু জাতের আলুর ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশে এসব জাতের আলু আবাদ কম হওয়ায় রপ্তানি করার সুযোগ কম।