স্বামীর আবদার মেটাতে মাকে হত্যা করে ববি

নাটোর প্রতিনিধি : স্বামীর মোটরসাইকেল কেনার জন্য মায়ের কাছে টাকা দাবি করেন মেয়ে ববি (২১)। মা সেলিনা বেগম (৪৮) টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় মা-মেয়ের বাকবিতণ্ডা। এতেই মা সেলিনা বেগমের বিপর্যয় ঘটে। একপর্যায়ে মেয়ে ববি উত্তেজিত হয়ে মায়ের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই সেলিনা বেগম মারা যান।

নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর-সদরের নারিবাড়ি ব্রাক অফিসের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।

সোমবার (২২ মার্চ) সন্ধায় নিজ শোবার ঘর থেকে সেলিনা বেগমের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মেয়ে ববিকে আটক করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের শিকার গৃহবধূ সেলিনা বেগম নারিবাড়ি মহল্লার নজরুল ইসলামের স্ত্রী।

এ ঘটনায় নিহত সেলিনার ভাই সুলতান আহমেদ বাদি হয়ে মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) সকালে ভাগনি ববিকে অভিযুক্ত করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, লাশ উদ্ধার করে রাতেই ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তবে পিবিআই ও সিআইডিও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমেছে। পুলিশ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ববির ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে ৯ ভরি সোনা, নগদ ১৬ হাজার ৭৬০ টাকা উদ্ধার করেছে।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মেয়ে ববি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার মাকে গলাকেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

সিংড়া-গুরুদাসপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জামিল আকতার বলেন, নজরুল ইসলাম স্ত্রী-সন্তান রেখে সকালেই কর্মস্থলে যান। মেয়ে ববি তার স্বামীর জন্য মোটর সাইকেল ক্রয়ের মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। ওই দাবিতে রাজি হননি মা সেলিনা বেগম। এনিয়ে তাদের মধ্যে দিনব্যাপি ঝগড়া বিবাদ হয়। সোমবার বিকাল চারটার দিকে মা মেয়ের বাকবিতণ্ডা চরম পর্যায়ে পৌঁছে। একপর্যায়ে মেয়ে ববি মায়ের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ববি জানান, হত্যার পর মাকে খাটের ওপর ফেলে রাখেন। নিজের রক্তমাখা কাপড় পরিবর্তন করে পাশের দর্জির দোকানে যাওয়ার নাটক তৈরি করেন। যাতে কেউ তাকে সন্দেহ না করে।

নিহত সেলিনা বেগমের স্বামী নজরুল ইসলাম জানান, মোবাইল ফোনে তিনি স্ত্রী হত্যার খবর পান। বাড়িতে ফিরে মেয়ে ববিকে বিলাপ করে কাঁদতে দেখেন।