মামলা না তোলায় গৃহবধূকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে যৌতুকের মামলা তুলে না নেওয়ায় প্রকাশ্য গৃহবধূ ইয়াসমিন আক্তার (২৩) কে মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তারপরও হামলাকারীদের হুমকির কারণে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তিনি। চাহিদা মতো যৌতুক দিতে না পারায় স্বামী পাভেল ও তার স্বজনদের নির্যাতনের শিকার ইয়াসমিন মামলা করায় তার ওপর এই হামলা।

গত ১০ মার্চ ঈশ্বরগঞ্জের উচাখিলা ইউনিয়নের বালিহাটা গ্রামে দিনে দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি মারধরের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এই ঘটনায় সোমবার (২২মার্চ) ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বালিহাটা গ্রামের সৌদি প্রবাসী শহিদুল ইসলামের মেয়ে ইয়াসমিনের সঙ্গে ২০১৮ সালে বিয়ে হয় পাশের নওপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে পাভেল মিয়ার। বিয়ের পরে চাহিদার ১০ লাখ টাকা যৌতুক দিতে না পারায় পাভেল মিয়া প্রায়ই মারধর করতো ইয়াসমিনকে। নির্যাতন সইতে না পেরে স্বামীর বাড়ি থেকে সে বাপের বাড়িতে চলে আসে । পরে গত বছরের ২৬ নভেম্বর ইয়াসমিন ময়মনসিংহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে স্বামী পাভেল মিয়া, ভাসুর আল বাছির, শ্বশুর আবুল কালাম ও শাশুড়ি উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই যৌতুকের মামলায় গত ১ মার্চ গ্রেফতার হয় পাভেল মিয়া। এর জের ধরেই ১০ মার্চ স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন হামলা চালায় ইয়াসমিনের ওপর। পাভেলের মামা আনোয়ারুল ইসলাম, পপি, বেদেনা ও তানভীর এই হামলা চালায়। বোরো ধানের ক্ষেতে ইয়াসমিনকে হামলার ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে হামলাকারীদের হুমকিতে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
শিকার ইয়াসমিন জানান, মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল পাভেলের পরিবার। পাভেল গ্রেফতার হওয়ার পর পরিবারের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১০ মার্চ বাড়ির পাশে ক্ষেতে ছাগল আনতে গেলে পাভেলের মামা আনোয়ারুল ইসলাম, পপি, বেদেনা ও তানভীর তাকে বেদম মারধর করে।

তিনি আরও জানান, পাভেলের পরিবারের হুমকিতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আর বাড়িতে ফিরতে পারেনি। আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

ইয়াসমিনের ভাই মাহবুব জানান, নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর পাভেলের পরিবার আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ইয়াসমিনসহ পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ইয়াসমিনকে নিয়ে তারা বাড়ি ঘরে ফিরতে পারছেন না। তারা এখন বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এ বিষয়ে উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, পাভেলের পরিবার আগে থেকেই সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন। যৌতুকের জন্য একজন নারীকে এভাবে দিনে দুপুরে মারধরের ঘটনা এলাকাবাসী কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। এই ঘটনায় তদন্ত পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

ইয়াসমিনের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় সোমবার ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে আনোয়ারুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছেন।

জেলা পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান জানান, নারীর ওপর এই সহিংসতাকে বরদাশত করা হবে না। এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।