শর্তসাপেক্ষে বাতিল সিম ফিরে পাবে গ্রাহক

মিরর ডেস্ক : যেসব সিমের নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল সেগুলো শর্তসাপেক্ষে ফিরে পাবে আগের গ্রাহক। সিমটি সংশ্লিষ্ট মোবাইলফোন অপারেটরের ওয়্যারহাউজে থাকলে চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে পুরনো গ্রাহককে তা প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, নির্দিষ্ট সময় বন্ধ থাকার পর সিমটি আর গ্রাহকের মালিকানায় থাকে না। সিমটি অপারেটরের ওয়্যারহাউজে থেকে যায়। এ অবস্থায় গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিমটি তাকে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। গ্রাহকের অধিকার নিশ্চিত করতেই এমন উদ্যোগ বিটিআরসির।

জানা যায়, বিভিন্ন সময় গ্রাহক পুরনো সিম (নিবন্ধন বাতিল হওয়া) পাওয়ার জন্য বিটিআরসির শরণাপন্ন হয়। এ ছাড়া ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখে যেসব গ্রাহকের ১৫টির বেশি সিম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল তারা তাদের নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ১৫’র নিচে এনে ডি-রেজিস্টার্ড সিমটি পুনরায় নিবন্ধনের জন্য অপারেটরের কাছে আবেদন জানায়। ওই আবেদন মোবাইল অপারেটরের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হলে গ্রাহক পুনরায় কমিশনে আবেদন জানায়।

বিটিআরসি বিভিন্ন গ্রাহকের আবেদন পর্যালোচনা করে দেখেছে, গ্রাহক যে মোবাইল ফোন নম্বরটি ব্যবহার করে আগে ব্যাংক হিসাব, বিভিন্ন নাগরিক সেবা, ফেসবুক আইডি, ইমেইল বা অন্য কোনও মাধ্যমে নিবন্ধন করেছিলেন তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা ওই আইডি ফিরে পাচ্ছিলেন না। তা পুনরুদ্ধার করতে আগের সিমটির প্রয়োজন পড়ে।

এই পরিস্থিতিতে বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ) যাচাইয়ের মাধ্যমে বাতিল হওয়া সিমটি মোবাইল ফোন অপারেটরের ওয়্যারহাউজে থাকা সাপেক্ষে গ্রাহককে দিতে নির্দেশনা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিআরসি।

নিয়ম হলো, একজন গ্রাহকের সিম (৪৫০ দিনের কম অব্যবহৃত থাকলে) মোবাইল ফোন অপারেটর অন্য গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতে পারে না। ৪৫০ দিন পার হলেই তা পুনরায় বিক্রির জন্য কমপক্ষে তিনটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন এবং সংশ্লিষ্ট অপারেটরের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। বিজ্ঞাপন প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে গ্রাহক তার অব্যবহৃত সিম পুনরায় ব্যবহার না করলে মোবাইল ফোন অপারেটর সিমটি নতুন গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতে পারে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে একটি এনআইডি বা স্মার্টকার্ডের বিপরীতে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১৫টি সিমের নিবন্ধন করতে পারেন। পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের বিপরীতে ২টি সিম নিবন্ধন করতে পারবেন।