মতুয়াদের ভোট নিয়ে টানাটানি, অথচ প্রার্থী দেয়নি কোনও দলই

মিরর ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর ধরা হচ্ছে মতুয়া সম্প্রদায়কে। নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে এসে মতুয়া ধর্মমতের প্রবক্তা হরিচাঁদ ঠাকুরের ওড়াকান্দির বাড়িতে গিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে বিশেষ বার্তা দিতে চান বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজ্যের প্রায় দেড় কোটি মতুয়া ভোটারকে দলে টানতে চেষ্টার কমতি নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। অথচ এবারের নির্বাচনে সেই মতুয়া সম্প্রদায় থেকেই একজনও প্রার্থী দেয়নি কোনও দলই।

বিশ্লেষকদের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে সাড়ে তিন কোটি মতুয়া রয়েছেন, এদের মধ্যে ভোটার প্রায় দেড় কোটি। রাজ্য বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৩০টি আসনের ফলাফল নির্ধারিত হবে এই সম্প্রদায়ের ভোটে। আরও প্রায় ৬৩টি আসনের নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করতে পারেন মতুয়ারা। এ কারণেই হরিচাঁদ ঠাকুরের বাড়িতে যেতে এত আগ্রহী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সেখানে গেলে মতুয়া ভোটারদের বিশেষ বার্তা দেওয়া যাবে বলে মনে করে বিজেপি।

ভারতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকর হওয়া নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে মতুয়াদের। তাদের আপত্তির কারণে বনগাঁয় বিজেপির একটি জনসভাও বাতিল করতে হয়েছে। অথচ গত লোকসভা নির্বাচনে মতুয়া-অধ্যুষিত এই আসনে জয় পেয়েছিল বিজেপি। সেখানে তাদের প্রার্থী ছিলেন মতুয়া পরিবারের শান্তনু ঠাকুর। সেখানকার বিধায়ক তৃণমূলের মমতা ঠাকুরও মতুয়া পরিবারেরই সদস্য।

তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে একজন মতুয়াকেও প্রার্থী করেনি প্রধান কোনও দল। বিজেপির প্রার্থী তালিকায় যেমন কোনও মতুয়া নেই, তেমনি তৃণমূল কংগ্রেসের তালিকাতেও তাদের কারও নাম আসেনি।

এ নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রধান সেবায়েত মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর। শাসকদলকে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ করেছেন মমতা ঠাকু্রও।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বাস দিয়েছিলেন, করোনার টিকাদান শেষ হলেই মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। বিজেপির ইশতেহারেও তার উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, মতুয়ারা ভারতেরই নাগরিক। তাদের ভোটার কার্ড রয়েছে। তার তৃণমূল সরকার মতুয়াদের অধিকারের বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন।

নাগরিকত্ব ইস্যুতে এভাবে মতুয়াদের নিয়ে টানাটানি চলছে দু’পক্ষের মধ্যে। অথচ প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে উল্টো পথে হাঁটল উভয়।

এ পরিস্থিতিতে নিউটাউনের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অমিত শাহ। বৈঠক শেষে শান্তনু ঠাকুর বলেছেন, তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত আলোচনা হয়েছে। অবশ্য রাজনৈতিক বিষয়ও ছিল। বিধানসভার কিছু বিষয় নিয়ে কীভাবে কী করা যায় তা নিয়ে কথা হয়েছে। আনন্দের বিষয় হলো, যেটা চেয়েছিলাম সেটা হয়েছে।

এ বিষয়ে মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর বলেন, শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে মতুয়াদের নিয়ে বড় বড় সভা হয়েছে। সেখানে লাখ লাখ মতুয়াভক্ত উপস্থিত হয়েছেন। তবুও মতুয়া সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রার্থী করা হয়নি।

রাজ্যের যেসব আসনে মতুয়া ভোটের প্রভাব রয়েছে, তার একটা অংশে মতুয়াদেরই প্রার্থী করার দাবি জানিয়েছিলেন শান্তনু ঠাকুর। তবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণায় তার সেই দাবি মানা হয়নি। সেজন্যই বিজেপি জরুরি বৈঠক ডেকেছিল বলে জানা গেছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস