হোটেলে ফিরেছেন কোয়ারেন্টিন থেকে উধাও ৯ প্রবাসী

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেট নগরীর আম্বরখানার হোটেল ব্রিটানিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন থেকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে উধাও হওয়া একই পরিবারের নয় প্রবাসী হোটেলে ফিরেছেন। রবিবার (২১ মার্চ) রাত ৮টার দিকে জকিগঞ্জে গিয়ে পুনরায় হোটেলে ফিরেছেন। এদিন দুপুরের দিকে তারা হোটেল থেকে উধাও হন।

এ বিষয়ে ব্রিটানিয়া হোটেলের মার্কেটিং ম্যানেজার কাউসার খান বলেন, ‘আমাদের ও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দুপুরের পরে কোনও এক সময় তারা হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। এরপর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে আসছেন বলে জানানোর পর রাত ৮টার দিকে হোটেলে আসেন।’

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, ‘ওই হোটেলে একজন এএসআইয়ের নেতৃত্বে একজন পুরুষ ও দুই জন নারী কনস্টেবল দায়িত্বরত রয়েছেন। তাদের উপস্থিতিতেও কীভাবে প্রবাসীরা সেখান থেকে চলে গেলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

জানা গেছে, হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রতিদিনের মতো রবিবার সকালে রুটিন চেক করে সব প্রবাসীকে নিজ নিজ কক্ষে পেলেও দুপুর থেকে হোটেলের ২০৩, ৬০৩ নম্বর কক্ষে থাকা একই পরিবারের নয় প্রবাসীকে খুঁজে পাননি। বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারার পর রেজিস্ট্রি এন্ট্রি খাতায় দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে তারা সিলেটের জকিগঞ্জের বাড়িতে চলে গেছেন বলে জানান। চলে যাওয়া প্রবাসীরা হলেন– আব্দুল মালিক (৪৬), রুনা আক্তার (৪৪), তামিমা আক্তার (৯), তায়্যিবা আক্তার (১১), রুবাবা আক্তার (৪৩), রাহিমা বেগম (৪৩), রাদিয়া আক্তার (১১), সায়েমা বেগম (১৮) ও এম তাহমিদ চৌধুরী (৪)।

গত ১৮ মার্চ সকাল ১০টায় বিজি-২০২ বিমানের ফ্লাইটে করে ১৫২ জন যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। পরে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এরপর সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সেনাবাহিনী এবং পুলিশের তত্ত্বাবধানে ১৪৭ জনকে সাত দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য বাসযোগে বিমানবন্দর থেকে নগরীর নির্ধারিত আবাসিক হোটেলগুলোতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে নগরীর আম্বরখানার হোটেল ব্রিটানিয়ায় ৩৫ জনকে রাখা হয়।

প্রবাসীদের জকিগঞ্জে নিয়ে যাওয়া গাড়ির চালক নাজিম জানান, রবিবার সকাল ১০টার দিকে এই নয় প্রবাসীকে নিয়ে তিনি জকিগঞ্জে যান এবং দুপুরের খাবার খেয়ে বিকাল ৪টার দিকে আবার সিলেটের উদ্দেশে রওয়ানা হন। অসুস্থ বাবাকে দেখতে জকিগঞ্জে গিয়েছিলেন এই পরিবারের সদস্যরা।