হারই সঙ্গী হল বাংলাদেশের

মিরর স্পোর্টস : রাসেল ডোমিঙ্গো কিংবা অধিনায়ক তামিম ইকবাল, দুজনের মনেই ছিল দৃঢ় বিশ্বাস। নিউজিল্যান্ডে আগের সব সফরে যা হয়নি, এবার সেই কাজটি তারা করে দেখাবেন। সেই কাজটা হলো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে জয়। যেটির শুরু তারা করতে চেয়েছিলেন ডানেডিনের প্রথম ওয়ানডে দিয়ে। কিন্তু হায়! এবারও ভাগ্য বদলায়নি বাংলাদেশের। হারের সংখ্যাটাই কেবল বাড়লো। জয় তো দূরে থাক, সামান্য প্রতিরোধও গড়তে পারেনি তামিমরা।

আজ (শনিবার) ডানেডিনের প্রথম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিংটাই ডুবিয়েছে সফরকারীদের। কিউই পেসারদের সামনে খেই হারিয়ে তামিমরা ৪১.৫ ওভারে অলআউট হয় মাত্র ১৩১ রানে। সহজ এ্ই লক্ষ্য ২১.২ ওভারে টপকে যায় কিউইরা মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে।

যে উইকেটে ব্যাটিংয়ে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়েছে বাংলাদেশকে, সেখানে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ৫ ওভারেই ৫০ ছাড়ায়। তাদের এই দ্রুত রান ওঠার পথে আগ্রাসী ভূমিকায় ছিলেন মার্টিন গাপটিল। শুরু থেকে ঝড়ো ব্যাটিং করা এই ওপেনার হেনরি নিকোলসকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে যান শক্ত ভিত। যে ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন নিকোলস (৫৩ বলে ৪৯*) ও অভিষিক্ত উইল ইয়াং (৬ বলে ১১*)।

গাপটিল ঝড়ে দুর্দান্ত শুরু পায় নিউজিল্যান্ড। আক্রণাত্মক ব্যাটিং করা এই ওপেনাকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। চোট কাটিয়ে লম্বা সময় পর তাসকিন জাতীয় দলে ফিরেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ দিয়ে। ঘরের মাঠের ওই সিরিজের পর নিউজিল্যান্ডের প্রথম ওয়ানডেতে বল তুলে নিয়েই উইকেট উৎসবে মাতলেন তিনি। নিজের প্রথম ওভারেই তিনি ফিরিয়েছেন গাপটিলকে।

আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করা কিউই ওপেনার বিগ শট খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাসকিনের বলে বাড়তি বাউন্স থাকায় ব্যাটে লেগে জমা পড়ে উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে। আম্পায়ার আউটের সংকেত দিলেও একটু সময় নিয়ে রিভিউ নেন গাপটিল। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। ১৯ বলে ৩৮ রান করে ফেরেন তিনি। ঝড়ো ইনিংসটি তিনি সাজান ৩ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায়।

এরপর শুরু নিকোলস ও আরেক অভিষিক্ত ডেভন কনওয়ের পথচলা। এই জুটি প্রায় জয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিলেন, যদিও শেষটা করে আসতে পারেননি কনওয়ে। গাপটিলের ঝড়ে সবচেয়ে রান খরচ করেছেন হাসান মাহমুদ, খরুচে এই বোলার কিছুটা হলেও নিজেকে সান্তনা দিতে পারবেন এখন, অন্তত উইকেট তো পাওয়া গেছে! ৪.২ ওভারে ৪৯ রান খরচ করে এই পেসার পেয়েছেন কনওয়ের উইকেট।

নিজের চতুর্থ ওভারের শেষ বলে এসে উইকেট পেয়েছেন হাসান। যেভাবে তিনি ও হেনরি নিকোলস ব্যাট করে যাচ্ছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল ৯ উইকেটে জিতে যাবে নিউজিল্যান্ড। তবে তারা হারিয়েছে দ্বিতীয় উইকেট। হাসানের বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ধরা পড়ার আগে কনওয়ে ৫২ বলে করেন ২৭ রান।

নিউজিল্যান্ডের হারানো উইকেট দুটি ভাগ করে নিয়েছেন তাসকিন ও হাসান। তাসকিন ৪ ওভারে খরচ করেছেন ২৩ রান। আর হাসান ৪.২ ওভারে দিয়েছেন ৪৯ রান।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সেই ছন্নছাড়া বাংলাদেশই সামনে আসে। নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে যে এখনও ‘আগের’ বাংলাদেশই আছে, তামিমরা আরেকবার প্রমাণ দিলেন। কিউই পেসারদের সামনে ডানেডিনের প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ১৩১ রানে গুটিয়ে যায় তারা।

ট্রেন্ট বোল্টের শুরু ও শেষের ধাক্কায় এলোমেলো বাংলাদেশ। এই পেসারের সঙ্গে আলো ছড়িয়েছেন জিমি নিশাম, ম্যাট হেনরি ও কাইল জেমিসন। শুধু পেস আক্রমণ নয়, স্পিনেও সাফল্য পেয়েছেন মিচেল স্যান্টনার। তাদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে ৪১.৫ ওভারে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।

বোল্টদের সামনে সফরকারীদের কোনও ব্যাটসম্যানই সুবিধা করতে পারেননি। সর্বোচ্চ ২৭ রান করেছেন মাহমুদউল্লাহ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান মুশফিকুর রহিমের। এছাড়া লিটন দাস ১৯, অভিষিক্ত মেহেদী হাসান ১৪, তামিম ইকবাল ১৩, তাসকিন আহমেদ ১০ ও মোহাম্মদ মিঠুন করেছেন ৯ রান।

কিউইদের সবচেয়ে সফল বোলার বোল্ট। টপ অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার গুঁড়িয়ে দেওয়া বাঁহাতি পেসার ৮.৫ ওভারে ২৭ রান দিয়ে পেয়েছেন ৪ উইকেট। দারুণ বল করছেন নিশাম। ৮ ওভারে ২৭ রান দিয়ে তার শিকার ২ উইকেট। স্যান্টনার ৮ ওভারে ২৩ রান দিয়ে পেয়েছেন ২ উইকেট। আর হেনরি ৯ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।

নিউজিল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে এখনও জয়ের দেখা নেই বাংলাদেশের। তিন সংস্করণ মিলিয়ে খেলা ২৬ ম্যাচে হারের ‘বোঝা’ মাথায় নিয়ে ডানেডিনে ইতিহাস পাল্টানোর যে মিশনে নেমেছিল, সেটি ব্যর্থ। উল্টো হারের সংখ্যাটা আরও বাড়লো তামিমদের!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪১.৫ ওভারে ১৩১ (মাহমুদউল্লাহ ২৭, মুশফিক ২৩, লিটন ১৯, মেহেদী ১৪, তামিম ১৩, তাসকিন ১০; বোল্ট ৪/২৭, স্যান্টনার ২/২৩, নিশাম ২/২৭)।

নিউজিল্যান্ড: ২১.২ ওভারে ১৩২/২ (নিকোলস ৪৯*, গাপটিল ৩৮, কনওয়ে ২৭, ইয়াং ১১*; তাসকিন ১/২৩, হাসান ১/৪৯)।

ফল: নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: ট্রেন্ট বোল্ট।