ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ভারতের

মিরর স্পোর্টস : কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান। ভারত আর ইংল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজটিতে লড়াইটা যেন এমনই। ম্যাচের আগে বলে দেয়া যাচ্ছে না, কোন দলের পাল্লা ভারি।

এক দল একবার দাপট দেখিয়ে জিতছে, তো পরেরবার আরেক দল। তবে আহমেদাবাদে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে একপেশে ম্যাচ নয়, লড়াইটা হয়েছে দুর্দান্ত। যে লড়াইয়ে খুব কাছে এসে ইংল্যান্ড হেরেছে ৮ রানে। ভারত সিরিজে ফিরিয়েছে ২-২ সমতা।

সূর্যকুমার যাদব টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দৌড়ে নিজেকে শামিল করে নিলেন এই ম্যাচ দিয়েই। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন। আর সেই সুযোগেই জিতে নিয়েছেন একদম ম্যাচসেরার পুরস্কার।

আইপিএল দিয়ে নিজের জাত চেনানো ৩০ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের ৩১ বলে ৫৭ রানের ইনিংসে ভর করেই ৮ উইকেটে ১৮৫ তুলতে পারে ভারত। জবাবে ৮ উইকেটে ১৭৭ রানে থামে ইংলিশদের লড়াই।

টস হেরে ব্যাট করতে নামা ভারতের হয়ে ওপেনিংয়ে তেমন সুবিধা করতে পারেননি রোহিত শর্মা আর লোকেশ রাহুল। রোহিত ১২ বলে ১২ আর রাহুল ১৭ বলে আউট হন ১৪ রানে।

অধিনায়ক বিরাট কোহলিও ৫ বলে মাত্র ১ রান করে আরেকবার হন আদিল রশিদের শিকার। তবে সূর্যকুমার কোনো চাপ মাথায় নেননি। খেলেছেন একদম নিজের মতো। ৩১ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় ৫৭ রানের চোখে লাগার মতো এক ইনিংস বেরিয়ে আসে তার উইলো থেকে।

এরপর রিশাভ পান্তের ২৩ বলে ৩০ আর শ্রেয়াস আয়ারের ১৮ বলে ৩৭ রানের (৫ চার আর ১ ছক্কায়) ক্যামিওতে বড় সংগ্রহ পেয়ে যায় ভারত।

ইংল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন জোফরা আর্চার। ৪ ওভারে ৩৩ রান খরচায় ৪টি উইকেট নেন এই পেসার।

জবাবে জস বাটলার (৬ বলে ৯), ডেভিড মালান (১৭ বলে ১৪) ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও ওপেনার জেসন রয় চালিয়ে খেলছিলেন। ২৭ বলে ৪০ রান করে আউট হন তিনি।

তারপরও একটা সময় বেশ ভালো অবস্থানেই ছিল ইংল্যান্ড। ৩ উইকেটেই তুলে ফেলেছিল ১৩১ রান। কিন্তু ১৯ বলে ২৫ রান করে জনি বেয়ারস্টো আউট হওয়ার পরই যেন মরক লেগে যায় সফরকারিদের।

শার্দুল ঠাকুরের করা ইনিংসের ১৭তম ওভারের প্রথম দুই বলে সেট ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস (২৩ বলে ৪ বাউন্ডারি, ৩ ছক্কায় ৪৬) আর অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যানকে (৬ বলে ৪) হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে ইংলিশরা।

তবে শেষ ওভার পর্যন্ত সম্ভাবনা ছিল। আশা জাগিয়েছিলেন লোয়ার অর্ডারের জোফরা আর্চার। শার্দুল ঠাকুরের ওভারে দরকার ছিল ২৩ রান। টানা দুই বলে চার আর ছক্কায় আর্চার লক্ষ্য নামিয়ে এনেছিলেন ৩ বলে ১২ রানে।

ম্যাচ আরও জমে উঠেছিল শার্দুল পরের দুই ডেলিভারিই ওয়াইড দিলে। ৩ বলে তখন দরকার একটি চার আর একটি ছক্কা। কিন্তু দুই ওয়াইডের পরে চতুর্থ বলটিতে মাত্র এক রান নিতে পারেন আর্চার। পঞ্চম বলে আউট ক্রিস জর্ডান (৯ বলে ১২)। শেষ বলে আর্চারকে আর রানই নিতে দেননি শার্দুল।

৪ ওভারে ৪২ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে এই পেসারই ছিলেন এই ম্যাচে ভারতীয় দলের সেরা বোলার। সমান ওভার করে হার্দিক পান্ডিয়া মাত্র ১৬ রানে নেন ২ উইকেট।