পিএসজি ফুটবলারদের বাড়িতে চুরি: কার কত টাকা গেছে

মিরর স্পোর্টস : ২০২১ সালটা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না পিএসজির। দিনকয়েক আগে বার্সেলোনাকে বিদায় করে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে যে দল, তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন? না, মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বলা হচ্ছে ক্লাবটির খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত জীবনের কথা। এ বছরের শুরু থেকে বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা গেছে। যার সবশেষ শিকার আনহেল দি মারিয়া ও মারকিনুস।

ম্যাচ খেলার কারণে খেলোয়াড়রা থাকেন মাঠে, বাসায় যেহেতু পুরুষ মানুষ নেই, ওই সুযোগেই ডাকাত হানা দিচ্ছে তাদের বাড়িতে। রবিবার ফরাসি লিগ ওয়ানে নঁতের বিপক্ষে পিএসজির ম্যাচ চলাকালীন খবর আসে ডাকাত পড়েছে দি মারিয়ার বাড়িতে। সে সময় মাঠে খেলছিলেন আর্জেন্টাইন উইঙ্গার। কোচ মাউরিসিও পোচেত্তিনো তাকে তুলে নিয়ে জানান তার বাড়ির ঘটনা। পরে জানা গেছে, একই দিনে ডাকাতি হয়েছে পিএসজির ডিফেন্ডার মারকিনুসের বাড়িতেও।

এই দুটো ঘটনাই শুধু নয়, পিএসজি ফুটবলারদের জীবনে ডাকাতির ‍ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। ঘরে মানুষ থাকলে তাদের জিম্মি করে কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে ডাকাতরা। সে রকমই কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হলো—

মাউরো ইকার্দি

এ বছরের শুরুতেই, ৩০ জানুয়ারি ডাকাতের খপ্পরে পড়ে মাউরো ইকার্দি ও তার পরিবার। বিশাল অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে আর্জেন্টাইন তারকার। সেসময় পিএসজির ‘নাম্বার নাইন’ লরিয়েন্তের উদ্দেশে বের হয়েছিলেন। তার বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া জিনিসপত্রের মূল্য ছিল ৪ লাখ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ কোটি টাকারও বেশি।

সের্হিয়ো রিকো

২০২০ সালে সেভিয়া থেকে পিএসজিতে স্থায়ী চুক্তিতে নাম লিখিয়েছেন সের্হিয়ো রিকো। এই স্প্যানিশ গোলকিপার এক মৌসুম ধারে খেলেছিলেন প্যারিসের ক্লাবটি। স্থায়ী চুক্তি পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই বড় ধাক্কা খেয়েছেন তিনি। ইকার্দির বাড়িতে চুরি যাওয়ার কয়েকদিন আগে, ২২ জানুয়ারি ডাকাত পড়ে রিকোর বাড়িতে। খোয়া যায় ঘরি ও জুয়েলারিসহ আরও অনেক কিছু। যার মূল্য ধরা হয় ২৫ হাজার ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫ লাখ টাকারও বেশি।

থিয়াগো সিলভা

পিএসজির সাবেক অধিনায়ক পাড়ি জমিয়েছেন এখন চেলসিতে। প্যারিসে কাটানো আট বছরে থিয়াগো সিলভাও ডাকাতির শিকার হয়েছেন। ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর অনেক টাকার জিনিসপত্র হারান তিনি। মুল্যবান অনেক কিছুর মধ্যে ছিল জুয়েলারি, নগদ ‍টাকা ও ঘড়ি। অঙ্কটা চোখ কপালে তোলার মতো, ১৫ লাখ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫ কোটি টাকারও বেশি!

মারকিনুস

ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপের খবর, গত রবিবার দি মারিয়ার বাড়ির সঙ্গে ডাকাত পড়েছিল মারকিনুসের বাড়িতেও। তার বাবা-মাকে জিম্মি করে নাকি অনেক কিছু নিয়ে গেছে ডাকাতরা। তবে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার এবারই প্রথম ডাকাতির শিকার হননি, ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারিতেও একই ঘটনা ঘটেছিল। চার মুখোশধারী তার বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেছিল, যদিও নিরাপত্তাকর্মী আগেই পুলিশকে খবর দেওয়ায় বড় বাঁচা বেঁচে গিয়েছিলেন মারকিনুস।

দানি আলভেস

আরেক ব্রাজিলিয়ান দানি আলভেসের বাড়িতেও ডাকাত পড়েছিল তার পিএসজিতে কাটানো সময়ে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে মঁপেলিয়রের বিপক্ষে পিএসজির ম্যাচ চলাকালীন ডাকাতি হয় তার বাড়িতে। ক্ষয়ক্ষতি কত টাকার হয়েছিল, সেটা অবশ্য জানা যায়নি।

লেভিন কুরজায়া

২০১৯ সালের মার্চে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন লেভিন কুরজায়া। পিএসজির এই লেফট ব্যাকের বাড়িতে চার মুখোশধারী ঢুকতে যাচ্ছিল, তবে দেখে ফেলেন তার প্রতিবেশীরা। তাদের চিৎকারে পালিয়ে যায় ডাকাত দল।

এরিক মাক্সিম চুপো-মোটিং

দুই দফা ডাকাতির শিকার হয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। প্রথমবার ১০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচ চলার সময়। দ্বিতীয়বার একই বছরের ২৪ ডিসেম্বরে। দুই দফায় অনেক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল চুপো-মোটিংয়ের। ‍অঙ্কটা ৬ লাখ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ কোটি টাকার মতো।