ধাক্কা নয়, গাড়ির দরজায় পা চাপা পড়ে আহত হন মমতা

মিরর ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ষড়যন্ত্র করে ধাক্কা দিয়ে ফেলার অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি। নিজের গাড়িতে ওঠার সময় দলীয় নেতাকর্মীদের হুড়োহুড়ি ও দরজায় পা চাপা পড়ে আহত হন তিনি। যেটা স্রেফ দুর্ঘটনা।

পশ্চিমগঙ্গে নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত রাজ্য পুলিশের পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে ও বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়েক শনিবার (১৩ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছেন। কমিশনের নির্দেশে ঘটনা তদন্ত করে এরই মধ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার সময়ে মমতা ব্যানার্জির নিরাপত্তায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল। ভিড়ের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে গাড়িতে উঠতে গিয়ে আঘাত পান মুখ্যমন্ত্রী। তার পা গাড়ির দরজায় চাপা পড়ায় চোট পেয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার (১১ মার্চ) নন্দীগ্রামের মমতা ব্যানার্জি আহতের ঘটনা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সচিবালয় ও প্রধান প্রশাসনিক দফতর থেকে কমিশনকে রিপোর্ট পাঠানো হয়। তাতে গাড়ির দরজায় পা পড়ে মুখ্যমন্ত্রী আহতের তথ্য জানিয়েছেন মুখ্যসচিব আলাপন ব্যানার্জি।

মুখ্যমন্ত্রীর ওপর হামলার অভিযোগ উড়িয়ে দেয়ার আগে মেদিনীপুরের জেলা প্রশাসক বিভু গোয়েল একই তথ্য দেন বলে জানিয়েছে রাজ্য সচিবালয় সূত্র। এমনকি মমতার গাড়িতেও কেউ ধাক্কা দেয়নি বলে প্রতিবেদন ও নবান্নের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

তবে রাজ্য সচিবালয়ের প্রতিবেদনে যথেষ্ট তথ্য নেই জানিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। এ জন্য তারা নিজেদের দুই পর্যবেক্ষককে আলাদাভাবে তদন্তের নির্দেশ দেয়। দুই পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে ও অজয় নায়েক শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পৃথক প্রতিবেদন তৈরি করেন। সেখানে মমতার ওপর হামলা এবং কোনো ষড়যন্ত্র হয়নি বলে উল্লেখ করে। তবে নির্বাচন কমিশন এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

এর আগে শুক্রবার তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লিতে গিয়ে কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা দাবি করেছিলেন- নন্দীগ্রামের মমতার ওপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন। পরে বিজেপির প্রতিনিধি দল পৃথকভাবে কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এদিকে চিকিৎসকদের পরামর্শ খানিকটা উপেক্ষা করেই সোমবার (১৫ মার্চ) থেকে ফের নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ঝাড়গ্রাম জেলা থেকে তার সফর শুরু হবে। হুইলচেয়ারে বসেই প্রচারণার কাজ চালাবেন তিনি। আগামী বুধবার (১৭ মার্চ) তিনি ইশতেহার প্রকাশ করবেন।

গত ১০ মার্চ নিজের নির্বাচনী আসন নন্দীগ্রামে পড়ে গিয়ে আঘাত পান মমতা। ওই ঘটনায় ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতা সাংবাদিকদের বলেন, ভিড়ের মধ্যে বাইরের চার-পাঁচজন লোক ঢুকে পড়েছিল। তারা আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। ওরা ইচ্ছা করে ধাক্কা মেরেছে। এর পেছনে ষড়যন্ত্র ছিল।

খবর আনন্দবাজারের।