পতনে দামি শেয়ার, ডিএসই-সিএসইতে ভিন্ন চিত্র

অর্থনীতি রিপোর্ট : সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) দেশের শেয়ারবাজারে দামি শেয়ারের দরপতন হয়েছে। তবে এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সবকটি মূল্য সূচক বেড়েছে। তবে অপর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের কিছুটা পতন হয়েছে।

এদিন বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়। এতে প্রথম ৫ মিনিটের লেনদেনে ডিএসইর প্রধান সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে যায়। মাঝে কিছু প্রতিষ্ঠানের দরপতন হলেও বেলা ১১টার পর আবার একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়তে থাকে।

এতে বাড়ে সূচকের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা। দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে ডিএসইর প্রধান সূচক ৩১ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর হঠাৎ করেই শেয়ারের দামের দিক থেকে শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর দরপতন শুরু হয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্যান্য কোম্পানির ওপরও। ফলে আটকে যায় সূচকের বড় উত্থান।

ডিএসইতে শেয়ার দাম হাজার টাকার ওপরে থাকা ৮টি কোম্পানির মধ্যে ৭টিই দিনের লেনদেন শেষে পতনের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে- রেকিট বেনকিজার, ইউনিলিভার কনজুমার কেয়ার, মেরিকো, বার্জার, লিন্ডে বিডি, ওয়ালটন ও রেনেটা। বিপরীতে হাজার টাকার ওপরে দাম থাকা একমাত্র ইস্টার্ণ লুব্রিকেন্টের শেয়ার দাম বেড়েছে।

দামি শেয়ারের এই দরপতনের দিনে ডিএসইতে সবখাত মিলে দামবৃদ্ধির তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে পতনের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ১২২টি। আর ১১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দরপতন হলেও দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৬৮ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

প্রধান মূল্য সূচকের পাশাপাশি উত্থান হয়েছে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকের। আগের দিনের তুলনায় এই সূচকটি ৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৫৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

মূল্য সূচকের উত্থান হলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮০৯ কোটি ৫০ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৮৭৯ কোটি ৭৩ টাকা। সে হিসেবে লেনেদেন কমেছে ৭০ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ৯৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ৮৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৬৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রবি।

এছাড়া, ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- লাফার্জহোলসিম, সামিট পাওয়ার, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, জিবিবি পাওয়ার, লুব রেফ, শাহজিবাজার পাওয়ার এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো।

আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই কমেছে ৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৯ কোটি ৩ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২১৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৮টির এবং ৬৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।