সীমান্ত পাহারা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সবক্ষেত্রেই সফল নারী

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : হিলিতে সীমান্ত পাহারা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা। একইসঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরেও রয়েছে তাদের সরব পদচারণা। প্রায় প্রতিটি সেক্টরে রয়েছে নারীদের অবদান। কাজের মাধ্যমে নিজেরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের প্রতিও দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

একটা সময় ছিল যখন নারী মানেই ভাবা হতো তারা বাড়িতে রান্নার কাজ করবেন ও সন্তানদের দেখভাল করবেন, ঘর সামলাবেন। তারা ঘরের বাইরে বের হতে পারবেন না, থাকতে হবে চার দেওয়ালে বন্দি। কিন্তু সেই অবস্থা থেকে অনেকটাই বেরিয়ে এসে নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েছেন। বহিশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে র ক্ষায় সীমান্তে অস্ত্র হাতে পাহারার পাশাপাশি, বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানির পণ্য রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ, দু’দেশের মাঝে যাতায়াতকারী পাসপোর্ট যাত্রীদের তথ্য ও ব্যাগেজ তল্লাশি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নারী চোরাকারবারী ও নারী অপরাধী আটকসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন দফতরে তারা রেখেছেন দক্ষতার স্বাক্ষর।
হাকিমপুর উপজেলায় কৃষি অফিসার, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, সহকারী প্রোগামারের দায়িত্বে রয়েছেন নারীরা। এছাড়া সীমান্তে বিজিবির ছয় জন, থানায় একজন এএসআইসহ ছয় নারী সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

হাকিমপুর থানার পুলিশ সদস্য রিক্তা ও জনি বলেন, আমরা এই পেশায় নিযুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে নিজেরা যেমন দেশের জন্য কিছু করতে পারছি, পাশাপাশি আমাদের পরিবারকেও আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারছি। নারী অপরাধীদের ধরতে ও তাদের দেহ তল্লাশিসহ দাফতরিক বিভিন্ন কাজ করছি আমরা। পুরুষদের পাশাপাশি আমরাও আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি, কোনও সমস্যা হচ্ছে না। পুলিশের মতো এমন চ্যালেঞ্জিং পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করার মধ্য দিয়ে নিজেদের গবির্ত মনে করছেন বলে জানান তারা।

হাকিমপুর থানায় কর্মরত এএসআই হোসনে আরা জানান, আমরা এখানে ছয় জন নারী পুলিশ কর্মরত রয়েছি। এখানে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক যেসব সেবাগ্রহীতা থানায় আসেন তাদের বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করে থাকি। এই ধরনের ব্যক্তিরা থানায় সেবা নিতে আসলে তারা অনেক সময় বুঝতে পারেন না তারা কি মামলা করবেন বা জিডি করবেন। এসময় আমরা যতœ সহকারে তাদের সমস্যার কথা শুনি ও সে অনুযায়ী পরামর্শ দিয়ে থাকি। এছাড়া একজন পুরুষ পুলিশ একজন নারী সেবাগ্রহীতাকে যেভাবে বুঝাতে পারবেন, সেই তুলনায় নারীরা তাদের কাছাকাছি যেতে পারবে। অনেক কিছু পুরুষের কাছে বলতে লজ্জা করলেও আমাদের কাছে তা করবেন না। এতে করে পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদেরকে আইনি সহায়তা দেওয়া সহজ হয়।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আরজেনা বেগম বলেন, আমরা নারী কর্মকর্তা, আমার পাশেই হয়তো আমার অধিনস্থ কোনও পুরুষ কর্মকর্তা রয়েছেন তাকে স্যার বলে সম্বোধন করা হচ্ছে, অথচ আমাকে সম্বোধন করা হচ্ছে আপা বলে। একইসঙ্গে আমাদের অনেক সময় অবহেলা করা হচ্ছে একজন নারী হিসেবে। এটি অনেক সময় খারাপ লাগে, এটা আমাদের কাজের স্প্রিহা অনেকটা কমিয়ে দেয়। সবাইকে সম্বোধন করা উচিত তার পজিশন বা তার চেয়ারটাকে, কোনও মেয়ে বা ছেলে ভেদাভেদ করে নয়। আমরা প্রায়ই এ ধরনের ঘটনার সম্মুখিন হই। একজন ছেলে যে দায়িত্ব পালন করছেন, আমরাও নারী হিসেবে তাই করার চেষ্টা করি। এখানে নারী পুরুষ আলাদাভাবে দেখার কোন উপায় নেই।

হাকিমপুর থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, পুলিশ বাহিনীতে পুরুষ সদস্যের সঙ্গে নারী সদস্যরাও ভালো কাজ করছেন। পুরো দেশের মতো হাকিমপুর থানায় নারী শিশু বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ডেস্ক চালু রয়েছে। এখানে একজন এএসআইসহ ছয় জন নারী কনস্টেবল কর্মরত রয়েছেন। তারা নারী আসামিদের গ্রেফতার, তল্লাশি ও থানায় আগত নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক সেবাগ্রহীতাদের সেবা প্রদানসহ দক্ষতার সঙ্গে দাফতরিক নানা কাজ করে যাচ্ছেন। যারা এই ডেস্ক থেকে সেবা নিয়ে গেছেন পরবর্তীতে ভিন্ন অফিসারকে দিয়ে তাদের মতামত জানার চেষ্টা করেছিলাম, তারা প্রত্যেকেই নারী পুলিশ সদস্যদের সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যা পুলিশের জন্য নতুন মাইলফলক।