শামীমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ ওভারে দুর্দান্ত জয় বাংলাদেশের

মিরর স্পোর্টস : শেষ তিন ওভারে দরকার ছিল ৩৪ রান, হাতে মাত্র ৪ উইকেট। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ড উলভসের বিপক্ষে অনানুষ্ঠানিক দ্বিতীয় ওয়ানডেতে কঠিন পরীক্ষার মুখেই পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল।

তবে শামীম পাটোয়ারির দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শেষ ওভারে এসে জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা। ৪ উইকেট আর ২ হাতে রেখেই আয়ারল্যান্ড উলভসকে হারিয়েছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল।

পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেটি মাঝপথে বাতিল হয়েছিল আইরিশ একজন ক্রিকেটারের করোনা পজিটিভ হওয়ার খবরে। এই ম্যাচ জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল।

লক্ষ্য ছিল ২৬৪ রানের। আইরিশ বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছিল না, শেষ হাসি হাসবে কোন দল।

তবে চাপের মুখে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন ছয় নম্বরে নামা শামীম হোসেন পাটোয়ারি। ৩৯ বলে ৩ চার আর ২ ছক্কায় ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। এর মধ্যে ২টি ছক্কাই তিনি হাঁকিয়েছেন শেষ তিন ওভারে, সঙ্গে ছিল একটি বাউন্ডারি।

চারদিনের খেলায় পাত্তাই পায়নি আইরিশ উলভস। অনায়াসে জিতেছিল বাংলাদেশ ইমার্জিং একাদশ। বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলামের (ম্যাচে ১৩ উইকেট) স্পিন ঘূর্ণিতে বেসামাল আইরিশরা দাঁড়াতেই পারেনি।

তা দেখে মনে হচ্ছিল, ওয়ানডে সিরিজও বুঝি অমন একপেশে হবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। বরং ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ে দারুণভাবে ছিল আইরিশরা। মিডল অর্ডার শামীম পাটোয়ারি ত্রাণকর্তা না হলে অনিবার্যভাবেই হারতে হতো সাইফ হাসানের দলকে।

২৬৪ রানের পিছু ধেয়ে শেষ দিকে ধুঁকছিল জুনিয়র টাইগাররা। শেষ ৪ ওভারে ৪১ আর শেষ ১৮ বলে ৩৪ রান দরকার ছিল। ওই অবস্থায় শামীম আর পেসার সুমন খানের দৃঢ়তায় ৪ উইকেটের দারুণ জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে হওয়া এ ম্যাচে ৩ ওভারে ৩৪ রান দরকার থাকা অবস্থায় ৪৮ নম্বর ওভারে এক ছক্কা হাঁকান শামীম পাটোয়ারি। ১২ বলে ২৩ রান প্রয়োজন পড়লে জ্বলে ওঠে তার ব্যাট।

৪৯ নম্বর ওভারে আইরিশ উলভস দলের বাঁহাতি ফাস্ট মিডিয়াম বোলার জস লিটলকে এক ছক্কা ও বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সমীকরণ সহজ করে ফেলেন শামীম। ওই ওভারে ১৫ রান যোগ হলে শেষ ওভারে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের জয়ের জন্য দরকার পড়ে ৯ রান।

শেষ ওভারের প্রথম বলে সুমন খান বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে যান। দ্বিতীয় বলে পেসার সুমন সিঙ্গেলস নিয়ে স্ট্রাইক দেন শামীমকে। স্ট্রাইকে গিয়ে ব্যাটে বল লাগিয়েই ডাবলস নেন শামীম। তারপরের বল ওয়াইড আর ৩ বলে ১ রান থাকা অবস্থায় সিঙ্গেলস নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন শামীমই। সঙ্গী সুমন খান অপরাজিত থাকেন ১১ রানে (৯ বলে)।

২৬৪ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে দুই ওপেনার অধিনায়ক সাইফ হাসান (৩৬) আর তানজিদ তামিম (১৭) প্রথম ৭.৫ ওভারে ৪৪ রান তুলে দেন। ওয়ান ডাউন মাহমুদুল হাসান জয় (৯৫ বলে ৬৬) হাঁকান গুরুত্বপূর্ণ হাফসেঞ্চুরি।

তবে ইয়াসির আলী (৩১) আর তৌহিদ হৃদয় (৩১) মাঝখানে ওয়েল সেট হয়ে আউট হলে চাপ বাড়তে থাকে। এর মধ্যে উইকেটরক্ষক আকবর আলী শূন্য রানে ফিরলে রীতিমত হারের শঙ্কায় পড়ে ইমার্জিং দল।

৪৬ নম্বর ওভারে ২২০ রানে ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটার পর শামীম পাটোয়ারি আর পেসার সুমন খান শক্ত হাতে হাল ধরে অবিচ্ছিন্ন ৪৪ রান তুলে দলকে ২ বল আগে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন।

এর আগে দুই ওপেনার রোহান প্রিটোরিয়াস (১২৬ বলে ৯০) আর জেমস ম্যাককুলাম (৪১) এবং দুই মিডল অর্ডার স্টিফেন ডোহেনি (৩৭) ও অধিনায়ক হ্যারি টেক্টরের (৩১) ব্যাটিং দৃঢ়তায় ৭ উইকেটে ২৬৩ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে আইরিশ উলভস।

বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান (২/৩৯) আর পেসার সুমন খান (২/৫১) দুটি করে উইকেট পান। একটি করে উইকেট নেন শফিকুল ইসলাম আর মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ।